Nishant Kumar

অবশেষে জেডিইউ-তে যোগ দিলেন নীতীশ-পুত্র! এ বার কি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন নিশান্ত, জল্পনা তুঙ্গে

নিশান্ত যে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে চলেছেন, তার আভাস আগেই মিলেছিল। গত সপ্তাহে জেডিইউ-র প্রবীণ নেতা তথা বিহারের মন্ত্রী সরওয়ান কুমার জানিয়েছিলেন, নিশান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে জেডিইউ-তে যোগ দেবেন। রবিবার তা বাস্তবায়িত হল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৫
Son of Nitish Kumar, Nishant join JDU

(বাঁ দিক থেকে) সঞ্জয় ঝা, নিশান্ত এবং নীতীশ কুমার। ছবি: পিটিআই।

অবশেষে রাজনীতির ময়দানে পা দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত। রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বাবার রাজনৈতিক দল জনতা দল ইউনাইটেডে (জেডিইউ) যোগ দিলেন তিনি। দলে যোগ দিয়ে একসঙ্গে চলার বার্তা দিলেন নিশান্ত। তবে দলে তাঁর পদ কী হবে, কোনও মন্ত্রিত্ব পাবেন কি না, সেই জল্পনার অবসান এখনও ঘটেনি। যদিও নিশান্তের দাবি, জেডিইউ-তে তিনি সক্রিয় কর্মী হিসাবে থাকতে চান।

Advertisement

নিশান্ত যে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে চলেছেন, তার আভাস আগেই মিলেছিল। গত সপ্তাহে জেডিইউ-র প্রবীণ নেতা তথা বিহারের মন্ত্রী সরওয়ান কুমার জানিয়েছিলেন, নিশান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে জেডিইউ-তে যোগ দেবেন। শুধু তা-ই নয়, নিশান্ত জেডিইউ-তে ‘বড় দায়িত্ব’ও পেতে পারেন! দু’-এক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণাও হয়ে যাবে।

সরওয়ানের দাবির পরেই প্রকাশ্যে আসে নীতীশের রাজ্যসভায় যাওয়ার খবর। বুধবার রাত থেকেই জল্পনা দানা বাঁধতে থাকে। আর বৃহস্পতিবার যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন নীতীশ, তখন সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে। তবে তাঁর জায়গায় কে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। এ ক্ষেত্রে বিধায়কসংখ্যার হিসাবে এগিয়ে থাকা বিজেপি প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রীপদ পেতে চলেছে বলে আঁচ মিলেছে। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিজেপির যে নেতাদের নাম উঠে আসছে তাঁদের মধ্যে পয়লা নম্বরে রয়েছেন, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিহারের সরকার সামলেছেন নীতীশ। তাঁর এই রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত জেডিইউ-র একাংশের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়। বিহারের রাস্তায় জেডিইউ-র কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বিক্ষোভও দেখা যায়। যদিও নীতীশের দাবি, ‘‘সংসদীয় রাজনীতি শুরু করার পর বিহারের দুই কক্ষেরই সদস্য হওয়ার বাসনা ছিল আমার। একই ভাবে সংসদের দুই কক্ষের সদস্যও হতে চেয়েছিলাম আমি। সেই কারণে, এই নির্বাচনে রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হতে চাইছি।”

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সম্রাটের নাম আলোচনায় আসতেই নিশান্তকে নিয়েও জল্পনা শুরু হয় জেডিইউ-র অন্দরে। রবিবার জেডিইউ যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি একজন সক্রিয় সদস্য হিসাবে দলের দেখভাল করার চেষ্টা করব। আমার বাবা রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি তা মেনে নিয়েছি। আমরা তাঁর নির্দেশে কাজ করব। আমি দল এবং জনগণের আস্থা অর্জন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করব।’’

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেডিইউ-তে বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে নিশান্তকে। এ ছাড়াও, সম্রাট যদি মুখ্যমন্ত্রী হন তবে তাঁর ছেড়ে যাওযা উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসতে পারেন নিশান্ত। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত নয়।

পটনা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন নিশান্ত। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে রাঁচীর বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জনের পরে বহুজাতিক সংস্থায় চাকরিও করেছেন তিনি। তবে কখনওই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের ব্যাপারে তাঁর উৎসাহ দেখা যায়নি। বার বার তাঁর রাজনীতিতে যোগদানের ব্যাপারে জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু এত দিন বাস্তবে তা হয়নি। অবশেষে সক্রিয় রাজনীতিতে এলেন নীতীশ-পুত্র।

Advertisement
আরও পড়ুন