খাবার সংরক্ষণ করার সঠিক পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত।
ফ্রিজে খাবার রাখলেই তা দীর্ঘ দিন ভাল থাকবে— এমন ধারণা থেকে এই যন্ত্রের উপর সমস্ত দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আদপে কিছু খাবার ভুল জায়গায় বা ভুল পদ্ধতিতে রাখার কারণেই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তা সে যত ভাল মানের ফ্রিজেই রাখুন না কেন। বিশেষ করে এখন বাজারের দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে খাবার নষ্ট হওয়া মানেই পকেটে টান। তাই কোন খাবার কোথায় রাখবেন, তা জানা জরুরি।
টম্যাটো
অনেকেই সব্জি কিনেই ফ্রিজে পুরে দেন। অথচ টম্যাটো খুব বেশি ঠান্ডায় থাকতে থাকতে স্বাদ হারিয়ে ফেলে। ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে স্বাদ ভাল থাকে। রান্নাঘরের স্ল্যাবে রাখার সময়ে শুধু খেয়াল রাখবেন যেন, ডাঁটির অংশটি যেন নীচের দিকে থাকে। আর সূর্যালোকের সংস্পর্শে যেন না আসে। অতিরিক্ত পেকে গেলে তবেই ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
কফি
কফির প্রতিটি দানায় প্রচুর ছিদ্র থাকে। স্পঞ্জের মতো আর্দ্রতা প্রবেশ করে খুব তাড়াতাড়ি। গুঁড়োও খুব দ্রুত আর্দ্র হয়ে যায়। কফির শিশি ফ্রিজে রেখে দিলে ভিতরের অন্যান্য খাবারের গন্ধ শুষে নেয়, স্বাদও নষ্ট হয়। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা কফির শিশি বার করে যখনই খোলা হয়, তখনই বাতাসের সংস্পর্শে এসে কফির উপর জলীয় বাষ্প বা জল জমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে দলা পাকিয়ে যায় কফি। বায়ুনিরোধী পাত্রে কফি ভরে ফ্রিজের বাইরে রাখুন। প্রতি বার শুকনো চামচ দিয়ে কফি নিন। তা হলেই বেশি দিন ভাল থাকবে কফি। অবশ্যই দেখতে হবে রোদ যেন না পড়ে।
পাউরুটি
যাতে ছত্রাক তৈরি না হয়, তাই ফ্রিজে রাখা হয় পাউরুটি। কিন্তু ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রা পাউরুটির স্টার্চের অণুগুলিকে দ্রুত শক্ত দানায় পরিণত করে দেয়। ফলে পাউরুটি স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ দ্রুত বাসি হয়ে যায়। পাশাপাশি শুকনো এবং ঝুরঝুরে হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। খেতে ভাল লাগে না। তার বদলে একটি বায়ুনিরোধী পাত্রে পাউরুটি রেখে ফ্রিজের বাইরে রাখুন। কিন্তু ২-৩ দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে সেটি, না হলে আবার পচন ধরে যেতে পারে।
অলিভ অয়েল
একস্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের বোতল কিনে সোজা গ্যাস বা অভেনের পাশে রেখে দেন বাকি তেলগুলির মতো? কিন্তু দামি এই তেল রাখার ভুলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কখনওই উচ্চ তাপের পাশে রাখবেন না বা গরমের আঁচ যেন না লাগে। তাপ এবং প্রচুর আলো পড়লে তেলে অক্সিডেশন ঘটে। এর ফলে স্বাদ, গন্ধ, গঠন নষ্ট হয়ে যায় অলিভ অয়েলের। তাই কালো শিশিতে তেল ভরে ঠান্ডা এবং রোদের থেকে দূরে রেখে দিন। তবে ফ্রিজ নয়, আলমারির তাকে রাখলেই হবে।
মধু
মধু নষ্ট হয় না, এমনই সুনাম আছে তার। কিন্তু ফ্রিজে রেখে দিলে শক্ত হয়ে যেতে পারে খানিক। হেঁশেলের তাকেই রাখুন মধু। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যত বারই মধু বার করবেন, তত বারই যেন আঁটোসাঁটো করে বন্ধ করা হয় শিশির ঢাকনা। নয়তো বাতাসের সংস্পর্শে এসে স্বাদ ও গন্ধ হারাতে পারে।
ফ্রিজ খাবার সংরক্ষণের জন্য তৈরি হলেও, সব খাবারের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। দুধ, ডিম, ফল, শাকসব্জি কিংবা মাছ-মাংস— প্রতিটির প্রয়োজন আলাদা। তাই কী রাখছেন, তার পাশাপাশি কোথায় রাখছেন, তা-ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই খাবারদাবার অনেক বেশি দিন টাটকা রাখা সম্ভব।