পিসিওএসে ব্রণর সমস্যা বাড়ে, কী উপায়ে কমবে? ছবি: ফ্রিপিক।
শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করলে, মুখের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। মুখে সেবাম নিঃসরণের হারও বেড়়ে যায়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত চোয়াল, থুতনি, গলার উপর, পিঠে বা ঘাড়ে যদি ব্রণ বেরোতে দেখা যায়। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস থাকলে, এই সমস্যা বেশি হয়। এই অসুখে মহিলাদের শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্যের প্রভাব পড়ে ত্বকেও। এমন অবস্থায় বাজারচলতি রাসায়নিক দেওয়া ক্রিম বা জেলের বদলে ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের পরিচর্যা করলে লাভ হবে অনেক বেশি।
পিসিওএসের কারণে ব্রণর সমস্যা বাড়লে কী মাখবেন?
ত্বকের পরিচর্যায় স্ক্রাব, সিরাম মাখার চল যেমন জনপ্রিয়, তেমনই অনেকে ভরসা রাখেন প্রাকৃতিক উপকরণেও। নিম-হলুদ, হলুদ-চন্দন, অ্যালো ভেরা-মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে বহু দিন ধরেই। তবে পিসিওএস থাকলে ত্বকে কী কী মাখতে হবে, তা জেনে রাখা জরুরি।
নিম-হলুদের প্যাক
পিসিওএসে হরমোনের বদল ঘটে, এ সময়ে লেবুর রস বা অ্যালকোহল রয়েছে এমন কোনও প্রসাধনী ব্যবহার করা ঠিক নয়। বদলে নিমপাতা ও হলুদের ফেসপ্যাক মাখলে ব্রণ বা ফুস্কুড়ির সমস্যা কমবে। নিম পাতা বাটা বা গুঁড়োর সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ এবং জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে মেখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু'বার ব্যবহার করতে হবে।
কলার ময়েশ্চারাইজিং প্যাক
কলাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন থাকে যা ত্বকের গভীর থেকে আর্দ্রতা যোগাতে সাহায্য করে। একটি ভাল করে চটকে নিয়ে তাতে এক চামচ মধু মেশান। মিশ্রণটি মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজ়ার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বককে তাৎক্ষণিক নরম করে।
মুলতানি মাটি ও টি-ট্রি অয়েল
১ চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ২ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল এবং গোলাপ জল মেশান। এটি মুখে মেখে মিনিট পনেরো রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুলতানি মাটি অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং টি-ট্রি অয়েল ব্রণের সমস্যা দূর করে। সপ্তাহে ২ দিন প্যাকটি মাখলে উপকার পাবেন।
পেঁপের প্যাক
পেঁপে ভাল করে চটকে নিন। এর সাথে দুধ বা দই মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের রুক্ষতা দূর করে এবং প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে।