Summer Skincare

গরমে কেন জরুরি ‘এক্সফোলিয়েশন’? করতে হবে ত্বকের ধরন বুঝেই, কারা কেমন স্ক্রাব ব্যবহার করবেন?

গরমে ঘাম ও ময়লা জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে সেখানে সংক্রমণ হতে থাকে। এ কারণেই গরমে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা র‌্যাশের সমস্যা বেশি হয়। এর জন্য সঠিক স্ক্রাব ব্যবহার করে ত্বকের এক্সফোলিয়েশন করতে হয়। কোন ত্বকের জন্য কেমন স্ক্রাব ব্যবহার করা ভাল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১৪:২৩
Why Exfoliation Is Essential in Summer and How to Choose the Right Scrub for Your Skin Type

তৈলাক্ত ত্বকে এক রকম, শুষ্ক ত্বকের জন্য আলাদা, কোন ত্বকে কেমন স্ক্রাব জরুরি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গরমে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। ঘাম বেশি হলে তার সঙ্গে বাইরের ধুলোবালি, ময়লা জমে ত্বকে কালচে ভাব আসে, ব্রণ-র‌্যাশের সমস্যা বাড়ে। ত্বক মলিন হতে থাকে। এর থেকে রেহাই পেটে সঠিক পদ্ধতিতে ‘এক্সফোলিয়েশন’ জরুরি।

Advertisement

ত্বকের এক্সফোলিয়েশন কী?

ত্বকের একদম বাইরের স্তরটিকে বলা হয় এপিডার্মিস। প্রতি ২৮ থেকে ৩০ দিন অন্তর ত্বক তার পুরনো কোষ ঝরিয়ে ফেলে এবং নতুন কোষ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘সেল টার্নওভার’। ত্বক স্বয়ংক্রিয় ভাবেই মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। গরমের সময়ে অতিরিক্ত ঘাম এবং তেলের কারণে এই মৃতকোষগুলি নিজে থেকে ঝরে যেতে পারে না। কারণ ঘাম ও ময়লা জমে ত্বকের রন্ধ্রগুলি বন্ধ হতে থাকে, ফলে মৃতকোষগুলি ত্বকের উপরিভাগে জমতে শুরু করে। রোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে অক্সিজেনের অভাব ঘটে। এর ফলে সেখানে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে। তাই গরমের সময়ে ত্বকে ব্রণ বা ফুসকুড়ি বেশি হয়, ঘামাচি ও র‌্যাশের সমস্যাও দেখা দেয়। সে কারণে বাইরে থেকে মৃতকোষ সরিয়ে ফেলার কাজটি করতে হয়। যে পদ্ধতিতে তা করা হয়, তাকে বলে স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন। এখন বাজারে নানা রকম স্ক্রাবার বেরিয়ে গিয়েছে যা দিয়ে এটি করা যায়। কিন্তু সেগুলিতে রাসায়নিক থাকায় ত্বকের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। তাই ঘরোয়া উপকরণে এমন স্ক্রাবার বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায়।

ত্বক তৈলাক্ত হলে কর্পূরের স্ক্রাব

তৈলাক্ত ত্বকের এমন স্ক্রাব প্রয়োজন যা অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে কিন্তু ত্বককে শুষ্ক করবে না। নিম-মুসুর ডাল ও কর্পূরের স্ক্রাব এ ক্ষেত্রে উপকারী। ২ চামচ মুসুর ডালবাটা বা গুঁড়ো, ১ চামচ নিমের রস, এক চিমটে কর্পূরের গুঁড়ো ও এক চামচ গোলাপজল মেশাতে হবে। মুসুর ডাল একদম মিহি করবেন না, সামান্য দানাভাব রাখবেন। এর সঙ্গে নিমের রস, গোলাপজল এবং সামান্য কর্পূর মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে হালকা হাতে বৃত্তাকারে ১-২ মিনিট মালিশ করতে হবে। তার পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

শুষ্ক ত্বকে হাইড্রেটিং স্ক্রাব

শুষ্ক ত্বকে ঘাম হলেও ভিতর থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে ত্বক খুব তাড়াতাড়ি ফেটে যায় ও ট্যান ধরে। তাই হাইড্রেটিং স্ক্রাব জরুরি। বাদাম ও তরমুজ দিয়ে তা তৈরি করা যায়। ৫-৬টি কাঠবাদাম গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে তরমুজের রস ও ১ চামচ ঠান্ডা দুধের সর বা মালাই মিশিয়ে নিন। তরমুজের টুকরো বীজ ছাড়িয়ে মিক্সিতে পেস্ট করেও নিতে পারেন। এই স্ক্রাব ত্বকে লাগিয়ে ভাল করে মালিশ করে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মিশ্র ত্বকে গ্রিন-টির স্ক্রাব

কপাল, নাক এবং থুতনি তৈলাক্ত, কিন্তু গাল খুব শুষ্ক হলে এমন স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে যাতে ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য বজায় থাকে। এ জন্য গ্রিন টি ও চালের গুঁড়োর স্ক্রাব ভাল। ১ চামচ চালের গুঁড়ো, ২ চামচ ঠান্ডা করে নেওয়া গ্রিন টি ও এক চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। মুখে ও হাতে আলতো করে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন। এই স্ক্রাব ব্যবহারে ব্ল্যাকহেডসের সমস্যাও দূর হবে।

সংবেদনশীল ত্বকে মৃদু এক্সফোলিয়েশন

ত্বকে ব্রণ, র‌্যাশের সমস্যা বেশি হলে শক্ত দানাযুক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে জরুরি মৃদু এক্সফোলিয়েশন। পাকা পেঁপে ও ওট্‌স-দইয়ের স্ক্রাব কার্যকর হতে পারে। ওট্‌স মিক্সিতে হালকা গুঁড়ো করে নিন। এর সঙ্গে ২ চামচের মতো পাকা পেঁপে চটকে মেখে তাতে দই মেশান। মুখে মেখে মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহারে সুফল পেতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন