Viral Video

অস্তিত্বহীন দুই ‘ভারতীয় বিমানঘাঁটি’তে হামলা চালানোর দাবি পাক সেনাকর্তার! ভাইরাল ভিডিয়োয় হাসির রোল

পাক সেনাকর্তার ওই অবাস্তব দাবির ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ওয়ার অ্যান্ড গোর’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১০:৪৭
Pakistan military officer claims missiles attack on two Indian airbases that don’t even exists, video goes viral

ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর জবাবি হামলা। দু’টি ভারতীয় বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান! সম্প্রতি তেমনটাই দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়লেন এক পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা। কারণ, তিনি যে বিমানঘাঁটি দু’টিতে হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে, বাস্তবে সেগুলির কোনও অস্তিত্বই নেই। ওই পাক সামরিক কর্তার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ঘটনাটি কবে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে তা-ও ওই ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট নয়।

Advertisement

গত বছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারত। সেই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেই সময় ভারত-পাক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছোয়। ভারতের অভিযানের জবাবে ভারতের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ নামের ওই অভিযানের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব, রাজস্থান এবং গুজরাতের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলির মধ্যে ছিল ফতেহ-১ গাইডেড আর্টিলারি রকেট।

সেই অভিযান প্রসঙ্গেই এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখোমুখি হন পাক সেনার ক্যাপ্টেন মুনিব জামাল। পাকিস্তানের একটি স্থানীয় চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুনিব দাবি করেন, পাকিস্তানের তরফে ভারতের ‘রাজৌরি বিমানঘাঁটি’ এবং ‘মামুন বিমানঘাঁটি’কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। দুই জায়গাতেই ‘সফল’ ভাবে আঘাত হানে পাকিস্তানের ফতেহ-১।

সাক্ষাৎকারের সময় মুনিব বলেন, “আমাদের রাজৌরি বিমানঘাঁটি এবং মামুন বিমানঘাঁটি— এই দু’টি লক্ষ্যবস্তুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং আমরা সফল ভাবে সেগুলিতে আঘাত হেনেছি।” সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন, ফতেহ-১ ক্ষেপণাস্ত্র তার নির্ধারিত লক্ষ্যে আঘাত হেনেছিল কি না, তখন ক্যাপ্টেন মুনিব উত্তর দেন, উভয় অভিযানই সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পরেই বিতর্ক মাথাচাড়া দেয়। পাক সেনাকর্তার ওই দাবি দ্রুত নেটপাড়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সমালোচকেরা তাঁর কথায় ভৌগোলিক অসঙ্গতি তুলে ধরে তাঁর দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ, বাস্তবে ওই ‘বিমানঘাঁটি’গুলির কোনও অস্তিত্বই নেই। রাজৌরি জম্মু ও কাশ্মীরের একটি জেলা এবং সেখানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কোনও সক্রিয় বিমানঘাঁটি নেই। অন্য দিকে মামুন হল পঞ্জাবের পঠানকোটের কাছে একটি সামরিক সেনানিবাস এলাকা।

পাক সেনাকর্তার ওই অবাস্তব দাবির ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ওয়ার অ্যান্ড গোর’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই পাক সেনাকর্তাকে কটাক্ষ করতেও ছা়ড়েননি অনেকে। ক্যাপ্টেন মুনিবের দাবি নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়েনি পাকিস্তানের নেটাগরিকদের একাংশও। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর মজা করে লিখেছেন, ‘‘প্রত্নতত্ত্ববিদ, মানচিত্রকার, গুগ্‌ল এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী ‘রাজৌরি বিমানঘাঁটি’ এবং ‘মামুন বিমানঘাঁটি’ খুঁজে বার করার জন্য একটি যৌথ অভিযান শুরু করেছে। যদি কেউ এর ভূ-অবস্থান জানেন, অনুগ্রহ করে জানান।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানের পরবর্তী লক্ষ্য কি আটলান্টিস?’’

Advertisement
আরও পড়ুন