মথুরায় নৌকাডুবির ঘটনার আগের মুহূর্তের দৃশ্য। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
ক্ষমতার থেকে অতিরিক্ত ভিড় ছিল। যাত্রীদের গায়ে ছিল না লাইফ জ্যাকেট! শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মথুরার বৃন্দাবনে যমুনায় নৌকাডুবির ঘটনায় প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর ভিডিয়ো। ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুর ৩টে নাগাদ বৃন্দাবনের কেশী ঘাটের কাছে নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটে। সেই ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকলেই পঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। লুধিয়ানা থেকে ৩০ জনের একটি দল বৃন্দাবনে এসেছিল। যমুনা নদীতে ভ্রমণের জন্য তারা দু’টি নৌকা ভাড়া করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, যমুনার উপর পন্টুন সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লাগায় একটি নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। উল্টে যায়। আগরা রেঞ্জের ডিআইজি শৈলেশ পাণ্ডে বলেন, ‘‘যথাযথ তদন্তের পরেই নৌকাডুবির প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।’’ দুর্ঘটনা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ১৫ জনের মতো পর্যটককে বাঁচানো সম্ভব হলেও ১০ জনের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক জন। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েক জনের বয়ান অনুযায়ী, নৌকাটি নদীর মাঝখানে থাকাকালীন হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। প্রবল বাতাসের কারণে নৌকাটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।
এর মধ্যেই শনিবার সেই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এল। দুর্ঘটনার আগে ক্যামেরাবন্দি করা সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি নৌকা ভিড়ে ঠাসা। নৌকার ভেতরে জায়গা খুব কম। যাত্রীরা একে অপরের গা ঘেঁষে বসে এবং দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাল ঠুকে ঠুকে ‘রাধে রাধে’ বলে ভজন গাইছেন তাঁরা। তবে কারও শরীরেই লাইফ জ্যাকেট নেই। মনে হচ্ছে, যাত্রীদের ধারণ করার অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে নৌকাটি। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রকাশ্যে আসা অন্য একটি ভিডিয়োই দেখা গিয়েছে, নৌকাডুবির পর স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছেন আরোহীরা। কেউ কেউ ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হাবুডুবু খাচ্ছেন। সেই ভিডিয়োরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল ভিডিয়োটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করেছেন সচিন গুপ্ত নামের এক সাংবাদিক। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই ধরনের নৌকায় যাত্রীসুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে।