Uttar Pradesh

ভাসুরপো প্রেমিকের সঙ্গে স্বামীকে বিদ্যুতের শক, বিষ দিয়ে খুন, মৃতদেহের সামনে করেন সঙ্গমও! গ্রেফতার ‘খুনি’ বধূ

পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, মোরাদাবাদের নিহত ওই যুবকের নাম পবন। অভিযোগ, পবনের স্ত্রী আঁচল, স্ত্রীর প্রেমিক, শ্যালিকা এবং শ্যালিকার প্রেমিক মিলে পবনকে খুন করেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১১:০৪
Woman from Uttar Pradesh kills husband with help of lover, sister and sister’s lover, all four arrested

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

প্রথমে মারধর। তার পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে এবং বিষ খাইয়ে খুন। স্বামীকে হত্যার পর তাঁর দেহের সামনে প্রেমিকের সঙ্গে চলল সঙ্গমও! তেমনই অভিযোগ উত্তরপ্রদেশের এক বধূর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মোরাদাবাদের মাজহোলা থানা এলাকায়। সেই ঘটনায় ওই বধূ, তাঁর প্রেমিক, বোন এবং বোনের প্রেমিককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, মোরাদাবাদের নিহত ওই যুবকের নাম পবন। অভিযোগ, পবনের স্ত্রী আঁচল, স্ত্রীর প্রেমিক, শ্যালিকা এবং শ্যালিকার প্রেমিক মিলে পবনকে খুন করেন। হত্যাকাণ্ডটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য অভিযুক্তেরা পবনকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার পাশাপাশি তাঁর শরীরে বিষপ্রয়োগ করেন বলেও পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর ছয়েক আগে আঁচলকে বিয়ে করেন পবন। তিন বছরের এক কন্যাও রয়েছে দম্পতির। এরই মধ্যে আঁচল তাঁর ভাসুরপো অঙ্কিতের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে কথা জানতে পেরে স্ত্রীকে বাধা দেন পবন। দম্পতির মধ্যে কলহ চরমে পৌঁছোয়। জানা গিয়েছে, সেই দ্বন্দ্বের জেরেই প্রেমিক অঙ্কিত, বোন শিখা এবং বোনের প্রেমিক অজয় দিবাকর নামের এক যুবকের সঙ্গে মিলে পবনকে খুনের ছক কষেন আঁচল।

অভিযোগ, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ মে অঙ্কিত, শিখা এবং অজয় পবনের বাড়ি যান। সেখানে পৌঁছোনোর পর পবনকে মারধর করেন তাঁরা। আঁচলও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। চার জন মিলে হামলা চালান পবনের উপর। তাঁকে বেঁধে মারধর করেন। এর পর পবনকে তড়িদাহত করা হয়। মৃতপ্রায় পবনকে জোর করে বিষও খাওয়ানো হয়। তার পর আবারও তড়িদাহত করা হয়। এর পরেই মৃত্যু হয় পবনের। অত্যাচার চালানোর সময় পবনের চিৎকার যাতে বাড়ির বাইরে না বেরোয়, তার জন্য অভিযুক্তেরা স্পিকারে উচ্চস্বরে গান চালিয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি, পবনের দেহের সামনে সঙ্গমও করেছিলেন অঙ্কিত এবং আঁচল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য পবনের মৃতদেহ সিঁড়ি থেকে নীচে ফেলে দিয়েছিলেন আঁচল এবং তাঁর সঙ্গীরা। এর পরেই পবনের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের আঁচল জানান যে, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। কিন্তু আঁচলের আচরণে সন্দেহ হয় পবনের পরিবারের। তাঁরা দাদা দেবেন্দ্র মাজহোলা থানায় ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তার ভিত্তিতেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, জেরার সময় অভিযুক্তেরা তাঁদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন