Bizarre Incident

সমাজমাধ্যমে ‘কন্যা’কে পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠালেন ‘বাবা’! অপরাধবোধে ভুগে ছবি মুছে ফেলার অনুরোধ, ভাইরাল ভিডিয়োয় হইচই

ভাইরাল পোস্টগুলিতে এক জন নারী এবং এক পুরুষের মধ্যেকার কথোপকথন দেখা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই পুরুষ একটি অশ্লীল ছবি পাঠিয়েছিলেন মহিলাকে। তবে রেগে যাওয়ার পরিবর্তে, তরুণী পুরো কথোপকথনটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৭:৫৫
Woman pranks man who sent her secret photos made him believe he is her father

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

মোবাইলে অশ্লীল ছবি পাঠানো এক ব্যক্তিকে পাল্টা ‘শুভ পিতৃ দিবস’ বার্তা পাঠালেন এক তরুণী। তিনি ওই ব্যক্তিরই কন্যা, তেমনটা বিশ্বাস করিয়ে বোকাও বানালেন। তেমনটাই দাবি করে একটি সমাজমাধ্যমের পোস্ট ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনলাইনে যে সব পুরুষ নিজে থেকেই মহিলাদের পুরুষাঙ্গের ছবি বা অন্য অশ্লীল ছবি পাঠান, তাঁদের শায়েস্তা করার এক অভিনব ও অদ্ভুত পদ্ধতি হিসাবেও অনেকে দেখছেন বিষয়টিকে।

Advertisement

সমাজমাধ্যম এক্সে করা পোস্টে কয়েকটি এডিট করা চ্যাট বা কথোপকথনের স্ক্রিনশট রয়েছে। এতে এমন ভাবে কথোপকথন সাজানো হয়েছে যাতে প্রেরক বিশ্বাস করতে বাধ্য হন যে, প্রাপক আসলে তাঁরই বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া কন্যা। কথোপকথনটি দ্রুতই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির দিকে মোড় নেয় এবং প্রেরকের মধ্যে বিস্ময়, অপরাধবোধ এবং বিভ্রান্তির মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কথোপকথনের স্ক্রিনশটগুলি শেয়ার করে এক এক্স ব্যবহারকারী ক্যাপশনে লিখেছেন, “একেক পরিবার একেক ভাবে পিতৃ দিবস পালন করে। আমার পালন করার ধরন আলাদা। যে সব পুরুষ অনুরোধ ছাড়াই ইচ্ছা করে পুরুষাঙ্গের ছবি বা অন্য অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে মহিলাদের উত্ত্যক্ত করেন, আমি তাঁদের বিশ্বাস করাই যে, আমি আসলে তাঁদেরই কন্যা।”

ভাইরাল পোস্টগুলিতে এক জন নারী এবং এক পুরুষের মধ্যেকার কথোপকথন দেখা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই পুরুষ একটি অশ্লীল ছবি পাঠিয়েছিলেন মহিলাকে। তবে রেগে যাওয়ার পরিবর্তে, তরুণী পুরো কথোপকথনটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যান। ওই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করান যে তিনি তাঁরই কন্যা। এর পরেই ঘাবড়ে যান অশ্লীল ছবি পাঠানো ব্যক্তি। অস্বস্তিতে পড়েন। তরুণী লেখেন, ‘‘বাবা, আমি যদি আপনার পুরুষাঙ্গের ছবিটি না পেতাম তবে ভাল হত।’’ এর পর ওই ব্যক্তি লজ্জায় পড়ে বার বার ছবিটি মুছে ফেলার অনুরোধ করতে থাকেন। অপরাধবোধে ভুগতে শুরু করেন তিনি।

পরবর্তী আর একটি পোস্টে ওই তরুণী লিখেছেন, “এই ধরনের পুরুষ আমার কাজটা খুব সহজ করে দেন। নিজেদের প্রোফাইলে পরিবারের সদস্যদের ট্যাগ করা থাকে। সেখান থেকে আমি ছবি এবং তথ্য খুঁজে পেয়ে যাই। পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানো পুরুষদের অস্বস্তিতে ফেলি। সেই সব পুরুষকে ‘হ্যাপি ফাদার্স ডে’ (শুভ পিতৃ দিবস), যাঁরা আমাদের শিখিয়েছেন যে কাজের পরিণাম বা ফলাফল বলে একটা বিষয় আছে।”

পোস্টগুলি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উল্কার গতিতে ভাইরাল হয়। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তরুণীর বুদ্ধির প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। অনুমতি ছাড়া মহিলাদের পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানো নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে নেটপাড়ায়। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘যেমন কর্ম তেমন ফল। তরুণী বেশ মজার মানুষ। তবে কেবল বিরক্তিকর বা বোকাসোকা না হয়ে যদি আর একটু বিদ্বেষপূর্ণ বা কঠোর হতেন, তবে আরও বেশি মজা লাগত।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘অনেক দিন পর সমাজমাধ্যমে দেখা সেরা জিনিসগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। বেচারা পুরুষ ভাবছেন নিজের মেয়েকেই পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠিয়ে বসে রয়েছেন। এই ধরনের মানুষের শিক্ষা পাওয়া দরকার।”

Advertisement
আরও পড়ুন