ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
গভীর জঙ্গলে হাতির পিঠে চড়ে যোগব্যায়াম করছেন বনকর্মীরা। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের তেমনই একটি ভিডিয়ো ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে নেটপাডার। সমাজমাধ্যমে আইএফএস (ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস) কর্তা প্রবীণ কাসওয়ানের শেয়ার করা সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। মনোরম পরিবেশে মননশীলতা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের এক বিরল মেলবন্ধন তুলে ধরেছে ভিডিয়োটি।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় ঘন সবুজে ঘেরা পরিবেশে, বন্য প্রকৃতির মধ্যে বয়ে চলা একটি নদীর উপর এক পাল হাতিকে শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। আর তাদের পিঠে চড়ে যোগাসন করছেন বনকর্মীরা। সামনে জঙ্গলে বসে আরও অনেকে ব্যায়াম করছেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ব্যতিক্রমী দৃশ্যটি মন ছুঁয়ে গিয়েছে নেটাগরিকদের। অনেকেই মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রশংসা করেছেন। অনেকে বলেছেন, চোখ সার্থক হল!
যোগব্যায়াম পর্বের পাশাপাশি ভিডিয়োয় জলদাপাড়ার সবুজ প্রকৃতির বিস্তৃত আকাশের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে। গাছের বিশাল আচ্ছাদন এবং অক্ষত প্রাকৃতিক পরিবেশ এক প্রশান্ত পটভূমি তৈরি করেছে, যা প্রকৃতির সঙ্গে যোগব্যায়ামের সংযোগ এবং অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
এক্স হ্যান্ডলে ভিডিয়োটি পোস্ট করে প্রবীণ লিখেছেন, ‘‘দেশের এক প্রত্যন্ত কোণে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক যোগদিবস।’’ তাঁর বার্তা দর্শকদের হৃদয়ে সাড়া জাগিয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। বনকর্মীদের প্রয়াসের প্রশংসা করেছেন নেটাগরিকেরা। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত জলদাপাড়া অভয়ারণ্য মূলত ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত। এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটি হাতি, চিতাবাঘ, গৌর (ভারতীয় বাইসন), বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ এবং শত শত প্রজাতির পাখিরও আবাসস্থল। এই পার্কে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ এবং সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় হাতির পিঠে চড়ে টহল দেওয়া দীর্ঘকাল ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।