Maheshtala

একে অন্যকে জড়়িয়েই চরম পদক্ষেপ! মহেশতলায় বন্ধ ঘরে মিলল দম্পতির দেহ, মাথায় ছিল ঋণের বোঝা

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতদের নাম তন্ময় দে (৫৪) এবং রুমা রক্ষিত দে (৪৮)। আগের পক্ষের সঙ্গীর মৃত্যুর পর পাঁচ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দু’জনে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৪

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

একঝলক দেখলে মনে হবে, ঠিক যেন একে অন্যকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে রয়েছেন! শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে এ ভাবেই উদ্ধার হল দম্পতির নিথর দেহ। পাশে মিলল ঘুমের ওষুধের পাতাও। তবে কেন ওই দম্পতি আত্মহত্যা করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, ঋণের দায়েই এই সিদ্ধান্ত।

Advertisement

শনিবার সকালে মহেশতলা পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লার গেট ২০ ফুট এলাকায় বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে ওই দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতদের নাম তন্ময় দে (৫৪) এবং রুমা রক্ষিত দে (৪৮)। আগের পক্ষের সঙ্গীর মৃত্যুর পর পাঁচ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দু’জনে। তন্ময়ের আগের পক্ষের এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। রুমারও আগের পক্ষের এক কন্যা রয়েছে। বিয়ের পর গত পাঁচ বছর ধরে মহেশতলার ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতে শুরু করেন ওই দম্পতি। প্রতিবেশীদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও দিন ঝগড়া হতে দেখেননি তাঁরা। এ হেন দম্পতির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো হতবাক আবাসনের সকলেই।

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিন সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বেরোতেন তন্ময় ও রুমা। কিন্তু শনিবার কেউ তাঁদের বেরোতে দেখেননি। সকাল থেকে ফ্ল্যাটের দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। আবাসনের বাসিন্দারাই পুলিশে খবর দেন। আত্মীয়দেরও খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জিঞ্জিরাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, খাটের উপর একে অপরকে জড়িয়ে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই দম্পতি। তবে কেন তাঁরা আচমকা এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির মাথায় ঋণের বোঝা ছিল। সম্ভবত সেই চাপেই আত্মহত্যা করেছেন তাঁরা। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন