West Bengal Weather Update

শনিবারও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায়! ফের উঠতে পারে ঝড়, কলকাতায় কী পূর্বাভাস

শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে কলকাতা এবং শহরতলি। ঝড় হয়েছে ৮৮ কিলোমিটার বেগে। শনিবারও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১০:১৩
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়।

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। —ফাইল চিত্র।

শুক্রবার বিকেলে ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে। বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে শহর এবং শহরতলি। বহু জায়গায় গাছ উপড়ে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এমনকি, ট্রেন পরিষেবাও থমকে ছিল দীর্ঘ ক্ষণ। ঝড়বৃষ্টিতে রাজ্যে আট জনের মৃত্যু হয়েছে শুক্রবার। ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে শনিবারও। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের ন’টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া।

Advertisement

শনিবার ঝড়বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা তুলনামূলক কম। তাই আলাদা করে আর কোথাও সতর্কতা জারি করা হয়নি। বিক্ষিপ্ত ভাবে শহরের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রের উপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। তাই সমুদ্র উত্তাল। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে সেখানে হাওয়া বইছে বলে জানা গিয়েছে। দমকা হাওয়ার বেগ কখনও কখনও পৌঁছে যাচ্ছে ৬০ কিলোমিটারেও। শনিবার পর্যন্ত তাই সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি কিছুটা কমেছিল। তবে আগামী মঙ্গলবার থেকে ফের দুর্যোগ শুরু হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলিতে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরের পাঁচ জেলায়। মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং উত্তর দিনাজপুরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। আলাদা করে কোনও সতর্কতা নেই।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে ওড়িশা পর্যন্ত টানা একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত। তা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ের উপর দিয়ে গিয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এ ছাড়া, ওড়িশা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। দক্ষিণবঙ্গে তাই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি এখনও রয়েছে।

শুক্রবারের ঝড়বৃষ্টির পর শহরে তাপমাত্রা আগের চেয়ে কমেছে। শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি কম। আগামী সাত দিন উত্তর বা দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

Advertisement
আরও পড়ুন