Migratory Birds Hunting

‘ঘরে’ ফেরার পথে চোরাশিকারিদের জালে পড়ছে শীতের অতিথিরা, রক্ষা করতে গ্রামে গ্রামে সচেতনতা শিবির

বীরভূম জেলার তারাপীঠ থানার অন্তর্গত কয়েকটি গ্রামকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বগারি পাখি সংরক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৬
পরিযায়ী পখি শিকার করা আটকাতে সচেতনতা শিবির।

পরিযায়ী পখি শিকার করা আটকাতে সচেতনতা শিবির। নিজস্ব চিত্র।

শীতের শেষপর্বে আবার ‘নিয়ম মেনে’ বীরভূম, মুর্শিদাবাদে তৎপর পাখি চোরাশিকারিদের দল। আর তাদের ঠেকাতে সক্রিয় বন্যপ্রাণপ্রেমী এবং বন দফতরও। আর এ ক্ষেত্রে ধরপাকড়ের পাশাপাশি বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনসচেতনাতা বাড়ানোর কাজে।

Advertisement

বীরভূম জেলার তারাপীঠ থানার অন্তর্গত কয়েকটি গ্রামকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বগারি পাখি সংরক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। ছোটা চড়াই জাতীয় এই বগারি (‘হিউমস শর্ট টোড লার্ক, মঙ্গোলিয়ান লার্ক-সহ কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে এই গোত্রে) পাখিদের মাংস সুস্বাদু। তাই নির্বিচারে তাদের জাল পেতে শিকার করা হয় বলে জানিয়েছে জনসচেতনতা শিবিরের আয়োজক ‘হিউম্যান অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালায়েন্স লিগ’ (হিল)। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বনবিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় থানার অফিসারেরা। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যর বিশেষ উদ্যোগে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন শান্তনু দাস। তিনি বলেন, ‘‘বগারি পাখি সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চল থেকে শীতে আমাদের দেশখে আসে। তারা পোকামাকড় খেয়ে কৃষকদের উপকার করে। অথচ আমরাই সেই বগারি পাখিদের মেরে ধরে খেয়ে নিচ্ছি।’’

শান্তনু জানান বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের আইনে বগারি পাখি শিকারে জেল-জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা বগাড়ি শিকারির খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নেবেন। হিল-এর সহ-সম্পাদক সৌম্যদীপ মণ্ডল জানান, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় শীতের শুরুতে বগারি পাখির আগমন ঘটে। তারা শীতের শেষে ফিরে যাওয়ার পথ হিসাবে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন শুষ্ক কৃষিজমি ব্যবহার করে। এই পাখির বিশেষত্ব হল, ফসল কাটার পর জমির পোকামাকড় শিকার করে এরা। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে জাল পেতে এই পাখিগুলিকে পরিকল্পিত ভাবে শিকার করে চোরাকারবারিরা।

Advertisement
আরও পড়ুন