জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের আগের দিন বুধবার সংবাদ সম্মেলন করলেন খালেদা জিয়া। সেই সম্মেলনে জেলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ওই দিন খালেদা বাংলাদেশের জনগনকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বানও জানান। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে গেলে তিনি তাদের বলেন, “আজকে প্রশ্ন নিচ্ছি না, প্রশ্ন আর এক দিন। পরে আপনাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলব, প্রশ্ন শুনব। এখন নয়।”

সাংবাদিক সম্মেলনে দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন।

গুলশনের অফিসে ওই সম্মেলনে খালেদা বলেন, “আমি কম বয়সে স্বামী হারিয়েছি। দেশের জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন। কারাগারে থাকাকালীন আমার মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় একটি সন্তান হারিয়েছি।” এ কথা বলতে বলতে তাঁর কন্ঠস্বর ভারী হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি এটাও বলেন, “আমার এই স্বজনহীন জীবনে দেশবাসীই আমার স্বজন। আল্লাহ আমার একমাত্র ভরসা। আমি যেমন থাকি, যেখানেই থাকি, যতক্ষণ বেঁচে থাকব, দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না।

এখানেই থেমে থাকেননি খালেদা। আরও বলেন, ‘আমার প্রিয় দেশবাসী আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছে অপরিমেয় ভালাবাসায়। প্রতিবারের নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে পর্যন্ত তাঁরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কোনও নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আমি আজ পর্যন্ত পরাজিত হইনি।”

৩৬ মিনিট সময়ের এই বক্তব্যে খালেদা নিজেকে এই মামলাতে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, “আপনাদের খালেদা জিয়া কোনও অন্যায় করেনি। কোনও দুর্নীতি আমি করিনি। ন্যায়বিচার হলে আমার কিছু হবে না, আমি বেকসুর খালাস পাব।”

খালেদা বলেন, ‘আওয়ামি লিগেও অনেকে আছেন যাঁরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং ভবিষ্যত্ পরিণতির কথা ভাবেন। তাদের প্রতিও আমার একই আহ্বান রইল। আমরা সংঘাত, হানাহানি, নৈরাজ্য চাই না। শান্তি চাই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এখনও আমরা আশা করে বসে আছি আওয়ামি লিগের নেতৃত্বের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”

সম্প্রতি পুলিশের উপর চড়াও হয়েছিল বিএনপি কর্মীরা। এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে খালেদা বলেন, ‘আগামীতে অনেক ফাঁদ পাতা হবে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, সবাই সাবধান ও সর্তক থাকবেন। বুঝে-শুনে কাজ করবেন। বাংলাদেশ আমাদের সকলের। কোনও ব্যক্তি বা দলের নয়। আমরা সংঘাত, হানাহানি, নৈরাজ্য চাই না। আমরা শান্তি চাই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।”