চলতি আর্থিক বছরে সোনার গয়না রফতানি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে বলে আশঙ্কা করছেন গয়না রফতানিকারীরা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই গত ৬ মাসে ৯০০ কোটি টাকার সোনার গয়না কম রফতানি হয়েছে। এর জন্য তড়িঘড়ি জিএসটি চালু করাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা।

রফতানিকারীদের অভিযোগ, ভ্যাট আমলের তুলনায় জিএসটি জমানায় সোনার গয়না রফতানিকারীরা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভ্যাটে তাঁরা যে-সব সুবিধা পেতেন, তার অনেকগুলিই এখন তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জিএসটি চালুর সময়ে যে-সব প্রতিশ্রুতি তাঁদের কেন্দ্র দিয়েছিল, তার কোনওটিই রাখা হয়নি। যার মধ্যে জিএসটি রিফান্ড সময়ে ফেরত না-দেওয়ার দিকেই আঙুল তুলেছেন তাঁরা। ওই রিফান্ডের টাকা গত ৬ মাস ধরে কার্যত ফেরত না-পাওয়ায় টান পড়েছে রফতানিকারীদের কার্যকরী মূলধনে। ফলে তাঁরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছেন। কমছে রফতানিও।

ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান পঙ্কজ পারেখ জানান, ‘‘রাজ্য থেকে চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনার গয়না রফতানি ৯০০ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮০০ কোটিতে। অথচ ২০১৬-’১৭ আর্থিক বছরে ওই সময়ে রাজ্য থেকে রফতানি হয়েছিল ২৭০০ কোটির।’’ পঙ্কজবাবু বলেন, গত ৬ মাসেই জিএসটি রিফান্ড বাবদ ৬০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর ফলেই কার্যকরী মূলধনে টান পড়েছে।

জিএসটি রিফান্ড কী
আমদানি-রফতানি নীতি অনুযায়ী রফতানির জন্য কেনা কাঁচামালে কর দিতে হয় না। ভ্যাট জমানায় রফতানির গয়না তৈরির জন্য কেনা সোনায় কার্যত কর রিফান্ডের প্রশ্ন উঠত না। কারণ, রফতানিকারী সোনা ঘরে তুলতে পারতেন ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিয়ে। একমাত্র রফতানি না-করলে তবেই ভ্যাট কেটে নেওয়া হতো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি ভাঙিয়ে। তবে জিএসটি আগে মেটাতে হবে নগদে। পরে তা রিফান্ড খাতে ফেরত দেবে সরকার।

ভ্যাট আমলের থেকে জিএসটি জমানায় তাঁরা কী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রফতানিকারীরা বলেন:

প্রথমত, পুরনো ব্যবস্থায় রফতানির জন্য সোনা কিনতে হলে ১ শতাংশ ভ্যাট দিতে হত। জিএসটি জমানায় তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩%।

তুল্যমূল্য

রফতানির জন্য সোনা কেনায় কর

ভ্যাট জমানা     জিএসটি

১%         ৩%

নগদে নয়           নগদে

দ্বিতীয়ত, রফতানির জন্য সোনা কিনতে হলে তাঁদের নগদ টাকায় ওই ভ্যাট মেটাতে হত না। সেই বাবদ ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিয়েই তাঁরা সোনা ঘরে তুলতে পারতেন। রফতানির জন্য কাঁচামালে কর দিতে হয় না বলে আদপে ওই ভ্যাট মেটাতেই হতো না। রফতানি না-করে গয়না দেশে বিক্রি করলে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি ভাঙিয়ে তা আদায় করত সরকার। নতুন ব্যবস্থায় ৩ শতাংশ জিএসটি তাঁদের আগাম নগদে মেটাতে হচ্ছে। ফলে গয়না রফতানি ব্যবসায় নতুন জমানায় আগের থেকে বেশি পরিমাণ কার্যকরী মূলধন প্রয়োজন। অতিরিক্ত মূলধন জোগাড়ের জন্য তাঁদের সুদ বাবদ খরচও বেড়েছে। অথচ জিএসটি রিফান্ড আটকে যাওয়ায় মূলধন সমস্যা আরও ঘোরালো হচ্ছে।

কথার খেলাপ

কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি

জুলাই-অগস্টের রিফান্ড মিলবে সেপ্টেম্বরে

তার পর থেকে আবেদনের সাত দিনে
দেরি হলে মিলবে সুদ

অভিযোগ
জিএসটি রিফান্ড কার্যত মেলেনি ৬ মাস
আটকে কার্যকরী মূলধন
ছ’মাসে শুধু এ রাজ্য থেকেই রফতানি কমেছে ৯০০ কোটি

পঙ্কজবাবু বলেন, ‘‘কেন্দ্র কথা দিয়েছিল, জিএসটি চালুর পরে প্রথম দু’মাসের রিফান্ড সেপ্টেম্বরে দেওয়া হবে। তার পর থেকে প্রতি মাসের সাত তারিখের মধ্যে আবেদন করলে সাত দিনেই মিলবে রিফান্ড। সবই এখন অথৈ জলে।’’