রোজ কয়েক পয়সার অদলবদল। কিন্তু তার আঁচও এখন বেশ ভাল রকমই টের পাচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ। গত ১৬ জুন প্রতিদিন জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণার নিয়ম চালুর পর থেকে ডিজেলের দর সোমবারই সবচেয়ে বেশি। পেট্রোলও তার সর্বোচ্চ উচ্চতার আশেপাশে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তার ছেঁকা টের পাচ্ছেন বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

গুজরাত ভোটের ঠিক মুখে কিছু দিন তা-ও দাম বাড়ায় ভাটা পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে ব্যালট যুদ্ধ মিটতেই ফের পেট্রোল-ডিজেলের দর বাড়ছে দ্রুত। প্রায় রোজ, এক নাগাড়ে।

গুজরাতে ভোট ছিল ৯ ও ১৪ ডিসেম্বর। ফল বেরিয়েছে ১৮ তারিখ। ডিসেম্বরের শুরুতে কলকাতায় ডিজেলের দাম এক-দু’পয়সা বাড়লেও তারপর থেকে তা ১ থেকে ৩ পয়সা করে প্রায় রোজই কমছিল। কিন্তু ১৪ তারিখের পর থেকে তার দাম বাড়তে শুরু করে অনেক বেশি হারে। ১ থেকে ১০ পয়সা পর্যন্ত।

পেট্রোলের ক্ষেত্রেও ছবিটা প্রায় একই। ১৩ তারিখ পর্যন্ত ১ থেকে ৪ পয়সা করে পেট্রোলের দাম কমলেও, ১৪ তারিখ থেকে তা বেড়েছে প্রায় রোজ। দিনে ৯ পয়সা পর্যন্ত।

তেল সংস্থাগুলির যুক্তি, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জন্যই দেশের বাজারেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে। ওপেক গোষ্ঠী ও রাশিয়া উৎপাদন কমানোয় অশোধিত তেল ‘ব্রেন্ট ক্রুডে’র দাম বাড়তে-বাড়তে ৬৬ ডলার ছাড়িয়েছে। যা গত জুনেও ছিল ৫০ ডলারের নীচে।

কিন্তু তেমনই অনেকের প্রশ্ন, অশোধিত তেলের দর আগের তুলনায় বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু ইউপিএ জমানায় এক সময় তা পৌঁছয় ব্যারেলে ১০০ ডলারের অনেকখানি উপরে। তখন কিন্তু তেলের দর এত উপরে উঠলে তীব্র প্রতিবাদ জানাত বিরোধী আসনে থাকা বিজেপি। তাহলে এখন তেলের চড়া দর নিয়ে সরকার চুপ কেন?

একই সঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, গত এক বছরে ডলারের সাপেক্ষে তো টাকার দর বেড়েছে ৪০৫ পয়সা। অর্থাৎ, ২০১৬-র শেষে এক ডলার কিনতে যেখানে ৬৭.৯২ টাকা লাগত, বছর পেরিয়ে সেখানে লাগছে ৬৩.৮৭ টাকা। তার প্রতিচ্ছবি দেশে জ্বালানি তেলের দরে কোথায়?

তেল ছবি

 

পেট্রোল

ডিজেল

১৬ জুন, ’১৭*

৬৮.০৩

৫৬.৬৫

সবচেয়ে বেশি

৭৩.৬২ (৩/১০/১৭)

৬২.৪২ (২/১/১৮)

সবচেয়ে কম

৬৬.১২ (২/৭/১৭)

৫৫.৬১ (৩০/৬/১৭)

২ জানুয়ারি, ’১৮

৭২.৭২

৬২.৪২

* রোজ দর বদলের শুরু   ** লিটারে দর টাকায়

ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তুষার সেনের অভিযোগ, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ওঠাপড়ার সঙ্গে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দরে তেমন সাযুজ্য থাকে না। দাম কমলে যতটা কমা উচিত ততটা কমে না। অথচ বাড়লে, বেশি বাড়ে। তাঁর দাবি, এখন লিটারে ডিজেলে ১৫ ও পেট্রোলে ১৯ টাকার বেশি কর চাপায় কেন্দ্র। রাজ্যের ক্ষেত্রেও তা যথাক্রমে ৯ ও ১৪ টাকার বেশি। পেট্রোপণ্যে জিএসটি চালু হলে দর কমবে বলেই তাঁর দাবি।