কথা বলার গণ্ডি ছাড়িয়ে মোবাইল ফোনে হু হু করে বেড়েছে দ্রুত গতির ইন্টারনেট পরিষেবার চাহিদা। এসেছে উন্নত মানের এলটিই (লং টার্ম ইভোলিউশন) প্রযুক্তি। এ বার সেই প্রযুক্তিতে আরও উন্নত ও দ্রুতগতির কথা বলার পরিষেবার (ভয়েস ওভার এলটিই বা ভিওএলটিই) বাজারও উন্নত দুনিয়ার মতো বাড়ছে ভারতেও।

’৮০-র দশকে প্রথম প্রজন্মের মোবাইল ফোনে শুধুই কথা বলা যেত। দ্বিতীয় প্রজন্ম বা ২জি পরিষেবায় তার সঙ্গে ধীরগতির নেট পরিষেবা মিলল। কথার সীমা ছাড়িয়ে মোবাইলে নেটের চাহিদা বৃদ্ধি আনে ৩জি পরিষেবা। এ দু’টির মূল প্রযুক্তি একই হলেও, গতি বেশি ৩জি-র। এর পরে এসেছে ৪জি প্রযুক্তি। কিন্তু এলটিই প্রযুক্তির ৪জি-তে নেটের গতি ৩জির চেয়েও বহু গুণ বেশি।

সমীক্ষা বলছে, পাঁচ বছরে ভারতে ‘ডেটা’-র ব্যবহার বাড়বে পাঁচ গুণ। যে কারণে, টেলিকম শিল্পের এক কর্তার কথায়, ‘‘সারা বিশ্বে টেলি শিল্প ঝুঁকছে ডেটা ভিত্তিক প্রযুক্তির দিকে।’’ এই পরিপ্রেক্ষিতেই রিলায়্যান্স-জিও, এয়ারটেলের পরে নতুন বছর থেকে কলকাতা-সহ কিছু জায়গায় ভিওএলটিই চালু করবে ভোডাফোন ইন্ডিয়া। এই ব্যবস্থায় ফোন করলে সংযোগ দ্রুত হয়। পরিষেবাও হয় সস্তা, দাবি শিল্পমহলের। উন্নত মানের ভিডিও-কলও করতে পারেন গ্রাহক।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথম সিঙ্গাপুরের পরে অনেক দেশেই ভিওএলটিই চালু করেছে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা। ভোডাফোন ইন্ডিয়ার এমডি ও সিইও সুনীল সুদ-এর দাবি, ‘‘নতুন প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকতে চাই আমরা।’’ তবে ৩জি-র মতোই ভিওএলটিই পরিষেবায় এখনও সমস্যা, উপযুক্ত মোবাইল ফোনের (হ্যান্ডসেট) জোগান। যেটা না থাকলে কোনও সংস্থা এই পরিষেবা দিলেও, গ্রাহক কাউকে ফোন করার পরে  সেই কলটি ২জি অথবা ৩জি-তে  রূপান্তরিত হয়ে যাবে।