নোটের আকাল ও কাঁচা চামড়ার জোগানের অভাবে সঙ্কট আরও ঘোরালো দেশের চর্মশিল্পে। মার খাচ্ছে রফতানিও।

গত পাঁচ বছরে এই প্রথম এতটা তলানিতে ঠেকেছে রফতানি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫-’১৬ সালের তুলনায় ২০১৬-’১৭ সালে তা কমেছে প্রায় ৫%। রফতানি ৪৯৫.৫৩ কোটি ডলার থেকে নেমে এসেছে ৪৭২.৩২ কোটিতে। চর্মশিল্পমহলের অবশ্য দাবি, কমপক্ষে তা ২০% কমেছে। আর রফতানি কমার অন্যতম কারণ উত্তরপ্রদেশে বেশ কিছু কসাইখানা বন্ধের জেরে দেশে কাঁচামালের জোগানে টান পড়া। তার জেরে দ্বিগুণ হয়েছে আমদানি, যা বাড়িয়ে দিয়েছে উৎপাদনের খরচ। ফলে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে ভারতের চর্মপণ্য। লেদার এক্সপোর্ট কাউন্সিলের পূর্বাঞ্চলীয় কর্তা রমেশ জুনেজার দাবি, সদ্য শেষ হওয়া আর্থিক বছরে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার কাঁচা চামড়া আমদানি করা হয়েছে। ২০১৫-’১৬ সালে যা ছিল ১০০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: দিল্লির তাজ মানসিংহ হোটেল নিলামে সায়

 

ভারতীয় চর্মশিল্পের মোট চাহিদা বছরে ৩০০ কোটি বর্গ ফুট চামড়া। উত্তরপ্রদেশে কসাইখানা নিয়ে সরকারি কড়াকড়িতে আগেই প্রমাদ গুনেছিলেন চর্ম ব্যবসায়ীরা। এ বার তা তথ্য পরিসংখ্যানেও ধরা পড়েছে। গত দু’বছর ধরেই দেশের মধ্যে কাঁচা চামড়ার জোগান কমছিল, যাতে ইন্ধন জুগিয়েছে উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি। ঘাটতি পূরণ করতে তৈরি চামড়ার আমদানি বেড়েছে লাফিয়ে। জুনেজার দাবি, ২০১৬-’১৭ সালে কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে ১০০%। যা উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে।

জুতো, চামড়ার পোশাক, ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিস থেকে শুরু করে ফিনিশড লেদার বা তৈরি চামড়া রফতানি, সব কিছুতেই মার খেয়েছে ভারত। তথ্য পরিসংখ্যানেই উঠে আসছে এই বেহাল দশা। ২০১৪-’১৫ সালে জুতো ও অন্যান্য চামড়ার জিনিসের মোট রফতানি ছিল ৬৪৯ কোটি ডলারের বেশি। ২০১৫-’১৬ আর্থিক বছরে ছিল ৫৮৬ কোটি ডলার। ২০১৬-’১৭ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪০০ কোটি ডলার।

গোটা দেশের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের চর্মশিল্পও। ২০১৪ -১৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০১৫-’১৬ সালে রফতানি প্রায় ১২% কমেছে। সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে জুতো রফতানি। তা কমেছে প্রায় ৫৫%। ২০১৬-’১৭ সালে অন্তত ২০% রফতানি কমেছে বলে দাবি চর্মনগরী বানতলার ব্যবসায়ীদের। জুতোর পাশাপাশি দস্তানা রফতানির ক্ষেত্রেও মার খাচ্ছে এ রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গের মোট রফতানির ৭৫% ‘গ্লাভস’ বা দস্তানা। এই দস্তানা তৈরির কাঁচামাল মোষের চামড়া, যা মূলত উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র থেকেই আসে।