নেট নিরপেক্ষতা নিয়ে ট্রাইয়ের সুপারিশে পুরোপুরি খুশি নয় টেলিকম শিল্পের একাংশ। হোয়াটসঅ্যাপ-কলের মতো ইন্টারনেট ভিত্তিক বেশ কিছু পরিষেবা এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় ক্ষুব্ধ তারা।

নিরপেক্ষ নেটের নীতি ভেঙে ইন্টারনেট পরিষেবার আওতায় আলাদা সুবিধা দেওয়ায় গ্রাহক মহলে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছিল কিছু সংস্থার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি টেলিকম নিয়ন্ত্রক ট্রাই জানিয়েছে, ইন্টারনেট একটি মুক্ত মঞ্চ। ফলে এমন কোনও বৈষম্য ঠেকাতে নীতি প্রণয়নের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করেছে তারা। তবে হোয়াটসঅ্যাপ-কলের মতো কিছু ‘ওভার দ্য টপ’ (ওটিটি) পরিষেবা নিয়ে পরে জানাবে বলে তারা মন্তব্য করেছে। আর এখানেই আপত্তি শিল্পমহলের একাংশের।

ট্রাইয়ের সুপারিশকে সাধারণ ভাবে স্বাগত জানালেও, নেট নিরপেক্ষতার সংজ্ঞা সঙ্কীর্ণতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ সেলুলার অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (সিওএআই)। তাদের দাবি, ওটিটি পরিষেবায় নেট নিরপেক্ষতা বজায় থাকছে না।

হোয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, ভাইবার, গুগ্‌ল ডুয়োর মতো যে-সব অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ফোন করা বা বার্তা (মেসেজ) পাঠানোর সুযোগ দেয়, তাদের সেই পরিষেবাই হল ওটিটি। বিশেষত হোয়াটসঅ্যাপের মতো পরিষেবা আসার পরে গ্রাহক মহলে তা যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনই টেলিকম সংস্থাগুলির ফোন কল ও এসএমএস ব্যবসা অনেকটা মার খেয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

শিল্পমহলের আরও দাবি, বিষয়টি শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়, মূল প্রশ্ন হল, প্রায় একই ধরনের দুটি পরিষেবার নিয়ম-কানুনে ফারাক নিয়ে। এ ছাড়া, ইন্টারনেটের ভিত্তিতেই ওই সংস্থাগুলি পরিষেবা দিলেও, সেগুলির জন্য গ্রাহকদের মধ্যে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

একটি সংস্থা-কর্তার বক্তব্য, সাধারণ টেলি পরিষেবায় যুক্ত তাঁদের মতো সংস্থাগুলির কাজের পরিধি সীমিত। তাদের সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। বিপুল দামে স্পেকট্রাম কিনতে হয়। বিভিন্ন এলাকায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার শর্তও মানতে হয়। কিন্তু নেট ভিত্তিক হোয়াটসঅ্যাপের মতো পরিষেবা ফোন করা বা বার্তা পাঠানোর সুযোগ দিলেও, সে জন্য ওই সব শর্ত মানতে হয় না। নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়িও নেই। বরং টেলিকম সংস্থাগুলির পরিকাঠামো ব্যবহার করে তারা পরিষেবাগুলি দিতে পারে।

উল্টে গ্রাহক অনলাইনে ফোন করলে টেলি সংস্থাটির স্পেকট্রামের গতি (ব্যান্ডউইড্থ) প্রায় ছ’গুণ কমে যায়। বার্তা পাঠানোর সময়ে গতি কমে প্রায় দ্বিগুণ। অথচ সেই হারে তাঁদের আয় হয় না বলেও অভিযোগ শিল্পমহলের। বরং পরিকাঠামোয় এ ভাবে গতি কমায় অন্য গ্রাহকদের পরিষেবা ব্যাহত হয়। তাই এই ধরনের সংস্থাকেও নেট নিরপেক্ষতার নীতির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টেলি শিল্পমহল।