ফের চড়া দামে কাটা মুরগি বিক্রি হচ্ছে কলকাতার বাজারে। বুধবারও খুচরো বাজারের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি ফেডারেশনের ঘোষিত দর ছিল কেজি প্রতি ১৭৫ টাকা। কিন্তু অধিকাংশ বাজারেই কেজিতে ২৫ টাকা বেশি অর্থাৎ ২০০ টাকা দরেই কাটা মুরগি বিক্রি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই দামেই মুরগি বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতাদের একাংশ।

মার্চ মাসে দোল ও হোলির পরে বেশ কয়েকদিন কেজি প্রতি ২০০-২১০ টাকায় মুরগি বিক্রি হয়েছে কলকাতায়। ওই সময়েও ফেডারেশনের ঘোষিত দর ছিল কেজি প্রতি ১৭৫ টাকা। কিন্তু বিক্রেতারা চড়া দামেই মুরগি বিক্রি করেছিলেন। বিভিন্ন বাজারের বিক্রেতাদের বক্তব্য ছিল, দোলের সময়ে চাহিদা মেটাতে গিয়ে রাজ্যের বহু পোল্ট্রিই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। চাহিদার থেকে জোগান অনেক কম বলেই দাম বেড়েছে।

তবে ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের চাহিদা মেটাতে রাজ্যে প্রতি সপ্তাহে ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি গোটা মুরগি লাগে। রাজ্যের পোলট্রিগুলিতে সেখানে এক কোটি ২০ লক্ষের মতো মুরগি সপ্তাহে উৎপাদন হয়। ফলে চাহিদার সঙ্গে জোগানের ফারাক থাকার কথা নয়। 

তা-ও দাম চড়া কেন? বিক্রেতাদের বক্তব্য, গরমে বহু মুরগি মারা যাচ্ছে। পোলট্রিতে তাই মুরগির টানাটানি। যে কারণে তাঁদের কিছুটা বেশি দামেই পাইকারি বাজার থেকে মুরগি কিনতে হচ্ছে। আর এর ফলে কাটা মুরগির দামও বেড়েছে বলে দাবি তাঁদের।

খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, বুধবার কলকাতার উত্তর-দক্ষিণ প্রায় সব বাজারেই ২০০ টাকা কেজি কাটা মুরগি বিক্রি হয়েছে। সল্টলেকেও মুরগির দর গিয়েছে একই রকম। তবে মাংসের সঙ্গে মুরগির মাথা, মেটে, গলা, পাকস্থলি যারা কিনেছেন, তাঁরা খানিকটা কম দামেই পেয়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি ফেডারশনের সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতি অবশ্য জানিয়েছেন, গরম পড়লেও রাজ্যে মুরগির কোনও আকাল নেই। মানুষের চাহিদা মতোই প্রতি দিন সকালে তাঁরা কলকাতার বাজারগুলিতে মুরগির জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। বিক্রেতাদের কাছে তাঁর আর্জি, বেশি দামে কাটা মুরগি বিক্রি না করে, ফেডারেশনের ঠিক করা দামেই যেন মাংস বিক্রি করা হয়।

কিন্তু ক্রেতাদের মধ্যে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ফেডারেশন প্রতি দিন কাটা মুরগির দাম ঠিক করে দিলেও কলকাতার অধিকাংশ বাজারেই সেই দরে মাংস বিক্রি হয় না। বরং বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে, সারা বছরই কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা বেশি দরেই মুরগি বিক্রি হয়।