বিবেক উৎসব, সুভাষ উৎসব-সহ ছাত্র-যুব উৎসবে খরচের খাতে কলকাতার কাউন্সিলরদের জন্য ৫০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু জিএসটি-র চাপে সেই টাকা খরচ নিয়ে চিন্তায় পুর প্রশাসন। ওই টাকা থেকে জিএসটি বাবদ দেয় অংশ কেটে রেখে বাকিটা খরচ করা যাবে, এমনই নির্দেশিকা রয়েছে। কারণ, খরচের বিলে জিএসটি না ঢোকালে পুরকর্তাদের পড়তে হতে পারে আইনি জটিলতায়। এ দিকে, অনেক ক্ষেত্রেই উৎসবের জিনিসপত্র কেনা হয় ছোটখাটো দোকান থেকে। সেখানে জিএসটি-সহ বিল করাই হয় না। অথচ জিএসটি ছাড়া বিল জমা নেওয়ার আর নিয়ম নেই পুরসভায়। বিবেক উৎসবের মুখে যা ঘিরে সঙ্কটে পড়েছেন বহু কাউন্সিলর। কারণ, এ নিয়ম মানতে হলে বহু খরচের বিল জমাই দেওয়া যাবে না। তা ঘিরেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। এ ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত না হলে টাকা বরাদ্দ করা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিভিন্ন বরোর এগ্‌জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। বুধবার সেই সমস্যার সমাধানে পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে ছুটতে হয়েছে তাঁদের। যদিও সমাধানসূত্র এখনও বেরোয়নি।

এ বার কাউন্সিলর পিছু বিবেক উৎসবের জন্য ২০ হাজার এবং সুভাষ উৎসবের জন্য ৩০ হাজার করে টাকা দিচ্ছে রাজ্য। ওই টাকাতেই হয় উৎসবের খাওয়াদাওয়া ও বাকি সব খরচ। এক পুর আধিকারিক জানান, গত বছর বরাদ্দ টাকা কাউন্সিলরের হাতেই দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা খরচ করার পরে হিসেবপত্র দিতেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ বারও তেমনই করার কথা ভেবেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারের নির্দেশ জিএসটি-র প্রাপ্য অংশ জমা দিতে হবে। তাতেই দেখা দিয়েছে সমস্যা। তাঁদের বক্তব্য, নিজেরা জিএসটি-র টাকা কেটে বাকিটা কাউন্সিলরদের দেওয়াও অসুবিধে, আবার জিএসটি মেটানো বিল চাওয়াও যায় না সব ক্ষেত্রে। এই অবস্থায় দিশেহার বরো অফিসারেরা পুর আমলাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এক সপ্তাহ পরেই শুরু হচ্ছে ওই উৎসব। তাই এ বার তাড়াহুড়োও বেড়েছে তাঁদের।

পুরসভা সূত্রের খবর, গত বছর একই পরিমাণ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তখন জিএসটি বলবৎ না থাকায় কোনও সমস্যা হয়নি। এমনকী, কাঁচা রসিদ দিলেও বিল আটকানো হয়নি। কারণ পুর আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, মিষ্টি, ফল, ফুল কেনা হয় ওয়ার্ডের ছোটখাটো দোকান থেকে। সব সময়ে সেখানে পাকা বিল না-ও থাকতে পারে। এ বার জিএসটি বলবৎ হওয়ায় সেই ধরনের বিল নিয়েই সমস্যা। তবে বিষয়টির নিষ্পত্তি নিয়ে দু’-এক দিনের মধ্যে ফের আলোচনা করতে হবে বলে জানান একাধিক পদস্থ অফিসার।