ভবনটির বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে কোনও পোড়ো বাড়ি। গা থেকে খসে খসে পড়ছে পলস্তারা। দেওয়ালের যত্রতত্র গজিয়েছে গাছ। মনে হবে এই বুঝি ভেঙে পড়বে!

অথচ তার ভেতরেই চলছে স্কুল। পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঠিকানা, ১৩ নম্বর ক্যানাল ইস্ট রোড। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব এই বিল্ডিংয়ে এক সময় তিনটি ঘর ছিল। তার মধ্যে দুটো এতটাই ভাঙা যে ব্যবহারের যোগ্য নয়। আর তৃতীয়টিতে গোটা তিরিশেক পড়ুয়ার সঙ্গে কোনও রকমে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষকদের কথায়, নিজেদের জন্য তো আতঙ্ক রয়েইছে। তবে বাচ্চাদের কথা ভেবে ভয় হয় বেশি। ওদের মাথায় ভেঙে পড়বে না তো!

কলকাতা পুরসভায় ২৬৫টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু স্কুলের বাড়ি পুরসভার নিজস্ব। প্রতি বছরই কোন না কোনও বিল্ডিংয়ের জন্য পুরসভা অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। তবে উল্টোডাঙার এই স্কুলটির হাল অনেক দিন থেকেই খারাপ। সম্প্রতি পুরসভার তিন নম্বর বরোর চেয়ারম্যান অনিন্দ্য রাউতের কাছে স্কুলের দুর্দশার কথা জানিয়ে আবেদন করা হয়। তারপরই স্কুলটি সারানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হয় পুর প্রসাসন। অনিন্দ্যবাবু জানান, পুরসভার শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই ওই স্কুল বাড়ি সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারেরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছে ওই টাকায় পুরো সংস্কার সম্ভব নয়। এর পর ফের শিক্ষা দফতরের মেয়র পারিষদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে টাকা বাড়ানোর কথা জানানো হয়।

এ দিকে স্কুলটির হাল দেখতে গত মাসের শেষে অফিসারদের নিয়ে হাজির হন অভিজিতবাবু। তিনিও উপলব্ধি করেন বিষয়টা। এর পর সংশ্লিষ্ট বরোর ইঞ্জিনিয়ারদের জানান, কাজ শুরু করুন। বাড়তি যা খরচ হবে তা দেওয়া হবে। মেয়র পারিষদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে এখন চিন্তামুক্ত শিক্ষকেরাও। বলছেন, এ বার পড়ুয়াদের নিয়ে ভয় কাটবে।

পুরসভার শিক্ষা দফতর সূত্রের আরও খবর, যে স্কুল বিল্ডিং পুরসভার নিজস্ব নেয়, কয়েকটি ক্ষেত্রে তা কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাবে পুর প্রশাসন। আর কোনও বিল্ডিং উল্টোডাঙার মতো খারাপ থাকলে তা সারানোর ব্যবস্থা করা হবে।