রাজ্যে মাছ চাষ বাড়াতে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কেবল কলকাতা শহরেই হাজার তিনেক পুকুর পড়ে রয়েছে, যেখানে মাছ চাষের নামগন্ধ নেই। বরং সংস্কার না হয়ে পড়ে থাকার কারণেই পুকুর ভরাট করে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে বলে মত পুরসভার। রাজ্যের মৎস্য দফতরের কর্তারা মনে করছেন, ওই সব পুকুরে মাছ চাষ করতে পারলে এই ভরাটের প্রবণতা রোখা যাবে। তা মেনে নিচ্ছেন কলকাতা পুরসভার একাধিক মেয়র পারিষদও। আর মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘মাছ চাষ তো করাই যায়।’’

পুরসভা সূত্রের খবর, কলকাতা শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জলাশয় রয়েছে। তার কোনওটা পুরসভার নিজস্ব, কোনওটা ব্যক্তি মালিকানায়। সংস্কারের অভাব ও ব্যবহার না হওয়ায় পুকুরগুলো ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ হয়ে যাচ্ছে। ফলে, কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে পুকুর ভরাটের অভিযোগ প্রায়ই শুনতে হয় পুরসভাকে। পুর-আমলাদের কেউ কেউ মনে করেন, ভরাটের অভিযোগের ক্ষেত্রে সব সময়ে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সব কিছু জেনেও নীরব থাকতে হয় পুরসভাকে। যদিও মঙ্গলবার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় তাঁর এলাকায় একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় বেজায় চটেছেন। ওই জায়গায় নির্মাণকাজ করার অনুমতি দিয়েছিলেন এক শ্রেণির পুর-ইঞ্জিনিয়ার। তাঁদের শো-কজ করা হলেও বিষয়টি যে নতুন নয়, তা জানাতে ভোলেননি পুরসভার আমলারা। 

গত বারের মতো এ বারও বর্ধমানে মাটি উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে মাছ চাষ বাড়ানোর ব্যাপারে দফতরকে উদ্যোগী হতে বলেছেন। মৎস্য দফতরের এক কর্তা জানান, কলকাতা পুরসভার অধীনে থাকা পুকুর ও জলাশয়গুলিতে সফল ভাবে মাছ চাষ করা সম্ভব। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘পুরসভা চাইলে মৎস্য দফতর সেখানে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে মাছের চাষ করতে

আগ্রহী।’’

মৎস্য দফতর সূত্রের খবর, কলকাতার পুকুর বা জলাশয়ে রুই, কাতলা, বাটা, তেলাপিয়ার মত চাষ করা যেতেই পারে। আর এই ধরনের মাছ কলকাতার বাজারগুলির চাহিদাও অনেকটা মেটাতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগ্রহী তরুণদের নিয়ে সমবায় তৈরি করে পুকুরগুলি লিজ দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাতে পুরসভারও বছরে কিছু রাজস্ব আদায় হবে এবং ওই কাজে যুক্ত যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও মিলবে। রাজ্য মৎস্য নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৌম্যজিৎ দাস জানান, জলাশয়ে গাপ্পি মাছের চাষ হলে মশার বংশবৃদ্ধি রোখা সম্ভব। মৎস্য দফতর ওই মাছের ডিম সরবরাহ করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, গাপ্পি মাছ খাওয়া যায় না। তবে ওই মাছ অন্য মাছের খাদ্য।

মৎস্য দফতরের এক কর্তা জানান, কয়েক বছর আগে মৎস্য দফতরের সচিব সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দফতরের কর্তাদের পড়ে থাকা পুকুরে মাছ চাষে উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। বছর তিনেক আগে রাজ্যের তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে মাথায় রেখে রাজ্যে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠীও তৈরি করা হয়। ওই কমিটি একটি রিপোর্টও তৈরি করে। তাতে নতুন পুকুরের পাশাপাশি পুরনো পুকুরগুলিতে যাতে মাছ চাষ বাড়ানো হয় সে ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সে সব হয়ে ওঠেনি।

পুরসভায় ওই দফতরের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার জানান, সংখ্যায় কম হলেও হাটগাছিয়ায় কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে তার সংখ্যা আরও বাড়ানো হলে ভাল হয়।

রাজ্যের ভূমি সংস্কার দফতরের ২৭২ ধারায় বলা আছে, কোনও সরকারি পুকুর বা জলাশয় অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। মাছ চাষের জন্য তা ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোনও স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সমবায় বা কোনও সংগঠনকে তা লিজে দিতে হবে।

মৎস্য দফতরের এক কর্তা জানান, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা কয়েকটি পুকুর লিজে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে বলে তিনি শুনেছেন।