সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে নতুন প্রজন্মের রুচি। পোশাকই হোক বা পেটপুজো, সারা বছর পছন্দের তালিকায় পশ্চিমি জিনিসেরই ভিড় বেশি। উৎসবের সময়ে কিন্তু তারাই ফের খোঁজে সাবেক সাজ, রসনাতৃপ্তির জন্য ভরসা রাখে পুরনো স্বাদে।

নিউ মার্কেটের চুড়ির দোকানে তাই ভিড় কমছে না। নতুন কেনা সালোয়ার কামিজের সঙ্গে চুড়ি ঠিকঠাক ‘ম্যাচ’ করল কি না, তা বারবার পরখ করে দেখে নিচ্ছেন অনেকেই। ইদ আসতে বাকি আর মাত্র এক সপ্তাহ। তার আগে শেষ রবিবার আসার আগেই কেনাকাটা সেরে ফেলতে শহরের বাজারে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মানুষজন।

প্রতি বারের মতো এ বারও সপরিবার নিউ মার্কেটে এসেছেন শ্রীরামপুরের আখতার জামান। রবিবার দুপুরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন। বিকেল গড়ালেও কেনাকাটার তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি। আখতারের স্ত্রী ফতেমা বানু বললেন, ‘‘টিপু সুলতান মসজিদে ইফতার সেরে আসি। পরে ফের কেনাকাটা করব।’’ জামান পরিবারের মতো অনেকেই ইদের বাজার সেরে ফেলার জন্য এ দিনটাই বেছে নিয়েছিলেন। জাকারিয়া স্ট্রিট, নিউ মার্কেট, পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার, মল্লিকবাজার বা খিদিরপুর, ভিড়ের ছবিটা সর্বত্র একই।

জাকারিয়া স্ট্রিট মানেই বাহারি পাঞ্জাবি, টুপির পসরা। এ দিন জাকারিয়া স্ট্রিটের বেশির ভাগ পাঞ্জাবির দোকানে ঘুরে দেখা গেল, খুদেদের ‘অ্যারাবিয়ান কুর্তা’ বিকোচ্ছে দেদার। নাখোদা মসজিদের উল্টো দিকের দোকানে তা কিনতে কচিকাঁচাদের ভিড় জমেছে ভালই। কুর্তা পরে বিভিন্ন ভঙ্গিতে আয়নার সামনে ‘পোজ’ দিয়ে চলছে বাছাই করার পালা।

খুশির ইদের নমাজ পড়তে যাওয়ার সময়ে নতুন পোশাক হলেই চলবে না, দরকার নতুন টুপিও। মনপসন্দ টুপি কিনতে ভিড়ে হাজির সব বয়সের মানুষই। একই রকম ভিড় সুগন্ধি আতরের পসরার সামনেও। নিউ মার্কেটের বিভিন্ন জুতোর দোকানের সামনে পড়েছে লম্বা লাইন। নিজের মনের মতো জিনিস বেছে নিতে ধৈর্য ধরে চলছে পরখ করার পালা।

পেটপুজোতেও যাতে খামতি না থাকে, তার জন্য কেনার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে সিমাই ও লাচ্চা। শহরের নানা প্রান্তে সিমাইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। মিলছে বেনারসি সিমাই থেকে লখনউ সিমাই। দাম কিলোপ্রতি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকা। নিউ মার্কেটের সিমাই ব্যবসায়ী রশিদ আহমেদের কথায়, ‘‘বেনারসি সিমাইয়ের চাহিদা এ বার বেশি। বিক্রিবাটা ভালই হচ্ছে।’’ একই ভাবে লাচ্চাও বিকোচ্ছে দেদার।

শেষ পর্যায়ে ইফতারের আয়োজন আরও আকর্ষণীয় করতে তুলতে ফলের বাজারেও ভিড় জমেছে দেখার মতো। রাজাবাজারের ফল ব্যবসায়ী রমজান আলির কথায়, ‘‘বছরের এই সময়টার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকি। ফলের বিক্রিবাটা সবচেয়ে বেশি হয় এই সময়েই।’’