‘মশা যাক, মানুষ থাক’— বছরের শুরুতেই এই স্লোগান নিয়ে শনিবার শহরজুড়ে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সচেতনতার মিছিল করল পুর প্রশাসন। চোখে পড়ার মতো আড়ম্বর ছিল পুরভবন থেকে বেরোনো মূল মিছিলের। রীতিমতো ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রা জওহরলাল নেহরু রোড, লেনিন সরণি, এস এন ব্যানার্জি রোড ঘুরে পুরসভায় পৌঁছয়। মশার কাটআউট লাগিয়ে ঘোরে বাচ্চা ছেলেরাও। পুরসভা সূত্রের খবর, এমন মিছিল পুরসভার পরিচালনায় আগে কখনও হয়নি। হাজির ছিলেন সাংসদ, মন্ত্রী, অর্থনীতিবিদ, শিল্পী, কলাকুশলী থেকে সমাজসেবীরা। পদযাত্রা শুরুর আগে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও আত্মবিশ্বাসের সুরে বলে ফেললেন, টার্গেট ছিল ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ায় কেউ যেন না মারা যায়। যা সম্ভব হয়েছে গত বছরে। এ বার লক্ষ্য আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যতে নামিয়ে আনা।

তবে মেয়র যে দাবিই করুন না কেন, বাস্তবে সেই কাজ ততটা সহজ নয় বলেই মনে করছেন পুরকর্তারা। কেন? তাঁদের কথায়, কলকাতার মশা বাহিত রোগের প্রকোপ কমাতে হলে শহর লাগোয়া পুরসভাগুলিতে মশা দমনের পরিকাঠামোও বাড়াতে হবে। এ নিয়ে বারবার বলা সত্ত্বেও তেমন কাজ হয়নি কলকাতা লাগোয়া হাওড়া, বিধাননগর, দমদম, মহেশতলা, বরাহনগর, রাজপুর-সোনারপুর পুর এলাকায়। অথচ ওই সব এলাকা থেকে দৈনিক লক্ষ লক্ষ লোক কলকাতা শহরে ঢোকেন। যেখান থেকে মশার কামড়ে আক্রান্ত রোগীর জীবাণু স্বাভাবিক ভাবেই ঢুকছে শহরে।

তা হলে কী করতে হবে?

পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, মশা দমনে কলকাতা পুরসভার প্রচেষ্টায় খুশি জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং ন্যাশানাল ভেক্টর বোর্ন ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রামের কর্তারাও। কিন্তু শহরকে মশাবাহী রোগ থেকে মুক্ত করতে লাগোয়া পুরসভাগুলির পরিকাঠামোও যে মজবুত করা দরকার, তা-ও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এমনকী, আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে আশপাশের ১০টি পুরবোর্ডকে নিয়ে আলোচনাসভাও করা হয়েছিল। সেখানেই বলা হয়েছিল কে কী করতে চান, তার বিশদ প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) পাঠাতে। কিন্তু অনেকটা সময় কেটে গেলেও এখনও তা অনেকেই পাঠাননি। ফলে কেন্দ্রীয় সহায়তাও মেলেনি। কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে লাগোয়ো পুরসভার মশা দমনের পরিকাঠামো ভাল হলে আমরাও সুফল পাব।’’ নতুন বছরে কী করবেন? তিনি জানান, গত বছর শহরের প্রায় ১৭০০ বাসিন্দা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ বার পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের চিকিৎসকেরা ওই সব আক্রান্তের বাড়ি যাবেন। তাঁদের হাল কেমন, কী ভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন, মশা দমনে সেখানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ সব দেখে রিপোর্ট তৈরি করবেন। একই সঙ্গে যে সব এলাকায় মশা আক্রান্তের প্রবণতা বেশি ছিল, সেখানেও মশা নিবারণের সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে এ সব কাজ শুরু হবে। সপ্তাহে দু’দিন করে তিনি নিজে বরো অফিসে গিয়ে মেডিক্যাল অফিসারদের নিয়ে মশা দমনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন বলে জানান। ইতিমধ্যেই পুরসভার ৯টি বরোতে ডেঙ্গি নির্ণয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখান থেকে বিনামূল্যে ডেঙ্গি রোগ নির্ণয়ে এলাইজা পদ্ধতিতে রক্তপরীক্ষা করার ব্যবস্থা হয়েছে। এ দিন পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডেই স্থানীয় কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে পদযাত্রা বেরোয়।