বদলে গিয়েছে রাতের মহানগরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা। সৌজন্যে কলকাতা পুলিশ।

লালবাজার সূত্রের খবর, ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ির দাপাদাপি রুখতে এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এখন মহানগরের বেশির ভাগ রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ, গভীর রাতে শহরের সিগন্যাল পোস্টগুলিতে হলুদ আলো দপদপ করার পরিবর্তে তাতে দিনের মতোই জ্বলছে সবুজ এবং লাল বাতি। সেই সঙ্গেই সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে রাতের শহরে ডিউটিতে থাকা বিভিন্ন ট্র্যাফিক গার্ডের হাতে গোনা পুলিশকর্মী এবং সার্জেন্ট অফিসারদের মধ্যে। ট্র্যাফিক পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই এই ব্যবস্থা রাতের শহরে চালু হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন গভীর রাতের ফাঁকা রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে সিগন্যাল না মনালেও ব্যবস্থা নিচ্ছে ট্র্যাফিক পুলিশ।

বিদেশের বিভিন্ন বড়বড় শহরে ২৪ ঘণ্টা ‘ট্র্যাফিক আওয়ার্স’ থাকলেও কলকাতায় তা ছিল না। পুলিশ সূত্রের খবর, আগে রাত ১০টাতেই শহরের বেশির ভাগ রাস্তায় ‘ট্র্যাফিক আওয়ার্স’-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যেত। ভোর পর্যন্ত ট্র্যাফিক পুলিশের দেখা মিলত না রাজপথে। পুলিশবিহীন মোড়গুলির সিগন্যালে হলুদ আলো দপদপ করে জ্বলত সারা রাত। হাতে গোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শুধু স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু থাকত। ট্র্যাফিক পুলিশের দাবি, হলুদ আলোর মানেই সতর্কীকরণ। অর্থাৎ, হলুদ আলো থাকলে সেখানে একটু দেখেশুনে যাতায়াত করার কথা। কিন্তু অধিকাংশ গাড়িই তা মানত না বলে অভিযোগ। নজরদারির অভাবে বহু গাড়িই চলত বেপরোয়া গতিতে। যার জেরে বাড়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা। পুলিশের দাবি, শহরের প্রতিটি রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাফিক সিগন্যাল চালু হওয়ায় বেপরোয়া গাড়ির চলাচল খানিকটা কমেছে।

লালবাজারের কর্তারা জানান, সম্প্রতি শহরে বেড়েছে এসইউভি ও স্পোর্টস গাড়ির সংখ্যা। রাতের শহরের ফাঁকা রাস্তায় সে সব গাড়ি যে প্রতাপ এবং দাপট নিয়ে চালানো হয়, তা রীতিমতো আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছিল পুলিশকর্তাদের কাছে। এ ছাড়া পণ্যবোঝাই ট্রাক-লরিও রাতভর শহরে দাপিয়ে বেড়াত। সেগুলিকেও বাগে আনতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি পুলিশকর্তাদের।

ট্র্যাফিক পুলিশের কর্তারা জানান, শহরের রাস্তায় বেপরোয়া গাড়িকে বাগে আনতে এবং ওই ব্যবস্থার পাশাপাশি রাতে ডিউটিতে থাকা ট্র্যাফিক পুলিশের অফিসার-কর্মীদের কাজের ধরনও বদলানো হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই রাজীবকুমার রাতের শহরে প্রতিটি গার্ডে দু’জন করে অফিসার এবং দু’জন করে কনস্টেবল রাখার নির্দেশ দেন। সেই মতো প্রতিটি গার্ডে ওই ব্যবস্থা চালু হয়। কিন্তু রাতের ফাঁকা রাস্তায় যে ভাবে লরি থেকে এসএউভি বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তাতে এক-দু’জন পুলিশ অফিসার বা কর্মীর পক্ষে তা বাগে আনা মাঝেমাধ্যেই ঝুঁকির কাজ হয়ে যাচ্ছিল বলে পুলিশকর্তাদের মনে হয়েছিল। তাই লালবাজারের নির্দেশে এখন দু’-তিনটি গার্ডের ট্র্যাফিক অফিসার নির্দিষ্ট একটি রাস্তায় একত্রিত হয়ে বেপরোয়া গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ঘটনাস্থলেই গাড়ি থামিয়ে আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানাও করা হচ্ছে।

লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ‘‘পুলিশ কমিশনার বিদেশের বিভিন্ন শহরের ধাঁচে শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজছেন। তার অঙ্গ হিসেবেই ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হয়েছে শহরে। এর ফলে রাতের ফাঁকা রাস্তায় সিগন্যালে অযথা গাড়ি নিয়ে দাঁড়াতে হলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কমবে।’’