মোটা টাকা ফি নিয়ে চলছে স্কুল। অথচ ব্যবসা ভিত্তিক স্কুল চালানোর জন্য পুরসভা থেকে কোনও ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া নেই বেহালার এম পি বিড়লা ফাউন্ডেশন হাইস্কুলের। ঠিকানা ২, ভূপেন রায় রোড (যা এখন জেমস লং সরণি নামে পরিচিত) কলকাতা ৩৪। পুরসভার নথি অনুযায়ী ২০০১-২০০২ সাল থেকে বিনা লাইসেন্সেই চলছে ওই স্কুল। এ নিয়ে বার বার পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু কাজ হয়নি। পুর নথি অনুযায়ী গত কয়েক বছরে লক্ষাধিক টাকা বকেয়া হয়েছে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের। বকেয়া টাকার পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, স্কুলের পাশাপাশি বিনা লাইসেন্সে ওই স্কুল চত্বরে চলছে একটি ডেয়ারির (এক্সপ্রেস ডেয়ারি লিমিটেড) ব্যবসাও। কিছু দিন আগে পুরসভার লাইসেন্স দফতরের একটি টিম সেখানে যায় ডেয়ারির ব্যবসা-সহ স্কুলের খোঁজ নিতে। কিন্তু তাঁদের স্কুলের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেই জানান ওই আধিকারিক। অভিযোগ, পুরকর্মীদের বলা হয়েছিল, ‘স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করলে ছবি তুলে পাঠিয়ে দেব উপরতলায়। তখন টের পাবেন।’ এ কথা শোনার পরে কেউ আর ও-মুখো হয়নি বলে জানান একাধিক কর্মী অফিসার। এ সবই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কানে তোলা হয়েছে। এমনকী ওই স্কুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য নোটও পাঠানো হয়েছে পুরবোর্ডের কর্তাদের কাছে। কিন্তু কোনও ‘অজ্ঞাত’ কারণে তা আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে পুরমহলেই।

পুরসভার নথি অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও তার জন্য পড়ুয়াদের প্রতি মাসে অনেক টাকা ফি বাবদ দিতে হয়। সেই অর্থে এটি ব্যবসা। কলকাতা পুরসভা আইনের ১৯৯ ধারায় স্পষ্ট ভাবে বলা আছে এর জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। এবং সেই মতো পুরসভার লাইসেন্স দফতর ২০১৫ সালে ফের এম পি বিড়লা স্কুলের কাছে নোটিস পাঠিয়েছিল। অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ জবাব দেওয়া নিয়ে প্রথম দিকে ততটা আগ্রহ দেখাননি। পরে জানান, এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা বলে তাঁরা মনে করেন না।

এর পরেও ফের পুর প্রশাসন ওই স্কুল কর্তৃপক্ষকে পুর আইনের ধারা তুলে ট্রেড লাইসেন্স করাতে বলেন। এমনকী পুরসভার আইন দফতরের সঙ্গে পরামর্শও করা হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, এতেও কাজ না হওয়ায় সম্প্রতি চিফ মিউনিসিপ্যাল ল’ অফিসার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া স্কুল চালানোর জন্য ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করতে পারে পুর প্রশাসন। গত জুলাইয়ের সেই নির্দেশনামার চিঠি আজও ওই অবস্থাতেই রয়ে গিয়েছে। ‘ক্ষমতাশালী এক শ্রেণি’র মদতে শুধু স্কুলই নয়, ভিতরে থাকা ডেয়ারির ব্যবসাও চলছে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই।

পুর প্রশাসন পদক্ষেপ করছে না কেন?

পুর অফিসারদের কথায়, স্কুলটি বেহালায়। তাদের পিছনে প্রভাবশালী কারও সমর্থন থাকতে পারে। পাছে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে তাই আগ বাড়িয়ে কেউ কিছু করতে চাইছেন না।’’ এম পি বিড়লা স্কুলের জেনারেল ম্যানেজার এস কে সিংহ অবশ্য এখনও মনে করেন স্কুলের জন্য ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সম্পত্তি কর দিচ্ছি। কাগজপত্র সবই আছে।’’ যদিও পুর কর্তৃপক্ষের কথায়, সে কথা উনি চিঠিতেও জানিয়েছিলেন। তার পরেও জানানো হয়েছে ট্রেড লাইসেন্স লাগবে।