অসুস্থ মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন রবিবার রাতে। কিন্তু, এক সপ্তাহ চিকিত্সা শেষে তাঁকে বাড়িতে আনার সময় দেখা গেল কোমরের নীচে বেডসোর হয়ে গিয়েছে। অথচ তা খেয়ালই করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর সেই অবস্থাতেই বিল তৈরি-সহ রোগীকে ছেড়ে দেওয়ার সমস্ত জোগাড়যন্ত্র করে ফেলেছিলেন তাঁরা। বিলের পরিমাণ? দু’লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

শনিবার কলকাতার মেডিকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমনই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ করেছেন আড়িয়াদহের বাসিন্দা শৌভিক চক্রবর্তী। যদিও হাসপাতালের তরফে এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন: জলে নেমে নিখোঁজ সাঁতারু, রহস্য

শৌভিক এ দিন জানান, গত রবিবার রাত আটটা নাগাদ অসুস্থ মা মৃদুলা চক্রবর্তীকে তিনি নিয়ে আসেন মেডিকায়। সেখানে মৃদুলাদেবীকে পরীক্ষা করে চিকিত্সকেরা জানান, তাঁর লিভারে সমস্যা রয়েছে। যে কারণে তাঁর বিলিরুবিনও বেড়ে গিয়েছে। এমনকী, তাঁর মূত্রনালীতেও সংক্রমণ ছিল। তাঁকে ভর্তি করার কথা বলা হয়। এর পর ওই রাতেই মাকে সিসিইউ (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট)-তে ভর্তি করেন শৌভিক। প্রথমে সিসিইউতে জায়গা পাওয়া যায়নি। পরে রাত একটা নাগাদ মেসেজ করে শৌভিকবাবুকে জানানো হয়, সিসিইউতে ট্র্যান্সফার করা হয়েছে মৃদুলাদেবীকে।


সেই অভিযোগ পত্র।

এর পর টানা এক সপ্তাহ ধরে তাঁর চিকিত্সা হয় সৌরেন পাঁজা এবং পিকে শেট্টি— এই দুই চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে। শৌভিকের দাবি, শুক্রবার রাতে তিনি সৌরেনবাবুকে জিজ্ঞেস করেন, মা-কে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন কি না? ওই চিকিত্সক তাঁকে জানান, অবস্থা তেমন ভাল না হলেও বাড়ি নিয়ে গিয়ে ঠিকমতো পরিচর্যা করলেই তিনি স্বাভাবিক হয়ে উঠবেন। সেই মতো মা-কে বাড়ি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন তিনি।

সেই মতো এ দিন সকালে হাসপাতালে যান শৌভিকবাবু। মৃদুলাদেবী তখন তাঁকে জানান, তাঁর পিছন দিকটায় ব্যথা এবং জ্বালা করছে। তখন নার্সকে ডেকে বিষয়টি জানান তিনি। নার্স এসে দেখেন মৃদুলাদেবীর কোমরের নীচে প্রায় দুই ইঞ্চি চওড়া বেডসোর হয়ে রয়েছে। এর পর শৌভিকবাবু যোগাযোগ করেন সৌরেন পাঁজার সঙ্গে। তিনি জানান, এটা তেমন একটা চিন্তার বিষয় নয়। শরীরে নড়াচড়া কম হওয়ায় এবং প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এমন র‌্যাশ বেরিয়েছে। বাড়ি নিয়ে গেলে কমে যাবে। কিন্তু, এক সপ্তাহ চিকিত্সার পর এমনটা কেন হল? এবং সেটা কর্তৃপক্ষের নজরে কেন এল না?

এর পর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিত্সায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বিনা পয়সায় চিকিত্সা তো করাচ্ছিলাম না। প্রায় তিন লাখ টাকা ইতিমধ্যেই বিল হয়েছে। আমি তো পাড়ার যদু-মধুর নার্সিংহোমে চিকিত্সা করাতে পারতাম। ভাল পরিষেবা পেতেই তো এখানে এসেছিলাম মা-কে নিয়ে। কিন্তু, এত খরচ করেও এটা কোন ধরণের পরিষেবা!’’

এ দিন সন্ধ্যাবেলা যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেন তাঁর সঙ্গে। বিলের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি আরও দু’দিন শুধুমাত্র ওষুধের খরচা দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃদুলা দেবীর চিকিত্সা করবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের তরফে সৌমেন বসু বলেন, ‘‘সবিস্তার না জেনে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’