নিউ টাউন পেরেছে। পারেনি কলকাতা। পারেনি সল্টলেকও।

নতুন বছরের প্রথম দিনই পার্ক সার্কাসের চার নম্বর সেতু থেকে নামার সময়ে বাতিস্তম্ভ থেকে ঝুলন্ত তারের জটে জড়িয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে এক মোটরবাইক আরোহীর। সেই ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠেছে, শহরের রাস্তায় বাতিস্তম্ভ থেকে এ ভাবে তার ঝুলবে কেন? তা ছাড়া, নিউ টাউনের মতো নতুন উপনগরী যা করতে পারে, পাশের সল্টলেক বছরের পর বছর তা পারে না কেন?

নিউ টাউনের কোথাও রাস্তায় তারের কুণ্ডলী নেই। বরং কোথাও বাতিস্তম্ভ থেকে তার ঝোলানোর চেষ্টা হলেই কড়া পদক্ষেপ করে প্রশাসন। অথচ, ঠিক তার পাশেই সল্টলেকে উল্টো ছবি। পথে পথে তারের জঙ্গল।

নিউ টাউনের দায়িত্বে থাকা হিডকো-র কর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে মাটির নীচে ‘মাইক্রোটানেলিং’ পদ্ধতিতে কেব্‌ল স‌ংযোগের তার নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, নিউ টাউনে এখনও জনবসতি সে ভাবে বাড়েনি। তাই গোড়া থেকে এই ব্যবস্থা বলবৎ করা গিয়েছে। কিন্তু যে সব জায়গায় বহু দিন ধরে মাটির উপরে তারের জট রয়েছে, সেখানে কী হবে?

বিধাননগরের বর্তমান পুরবোর্ডও মাটির নীচ দিয়ে ‘মাইক্রোটানেলিং’ পদ্ধতিতে কেব্‌ল নিয়ে যেতে চায়। ওই প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণাও করেছিল তারা। কিন্তু আজও তা হয়নি। সল্টলেকে এই কাজ শুরু হয়েছে একমাত্র পাঁচ নম্বর সেক্টরে। সেখানকার রিং রোডে এখন তারের জট নেই। মাটির নীচে ‘ডাক্ট’ বসিয়ে কেব্‌ল টানা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাটির উপরের তারের জঙ্গল। এই কাজের জন্য নবদিগন্ত কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি তৈরি করেছেন। তাতে নবদিগন্তের আধিকারিকদের পাশাপাশি কেব্‌ল অপারেটরদের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

নবদিগন্ত শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন বলেন, ‘‘পাঁচ নম্বর সেক্টরে ইতিমধ্যে একটি রাস্তা কেব্‌লমুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গোটা তথ্যপ্রযুক্তি তালুকেই এই কাজ করা হবে।’’

সল্টলেকে এই কাজ করা যায়নি কেন? বিধাননগরের মেয়র পারিষদ (আলো) সুধীর সাহার ব্যাখ্যা, নিউ টাউনে প্রথম থেকেই এই ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। কিন্তু সল্টলেকে শুরু থেকেই মাটির উপর দিয়ে কেব্‌ল গিয়েছে। এখন রাতারাতি সেই তার সরানো মুশকিল। তিনি বলেন, ‘‘আমরাও ‘মাইক্রোটানেলিং’ পদ্ধতিতে কেব্‌ল নিয়ে যাব। তার জন্য কেব্‌ল অপারেটরদের সঙ্গে এক দফা আলোচনা হয়েছে।’’

যদিও কেব্‌ল অপারেটরদের একাংশের বক্তব্য, মাটির তলা দিয়ে কেব্‌ল নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ‘ডাক্ট’ তৈরি হয়, তার খরচ সরকার বহন করুক। সে ক্ষেত্রে কেব্‌ল নিয়ে যাওয়ার ন্যূনতম ব্যয়ভার তাঁরা বহন করবেন। কিন্তু তার বেশি খরচ হলে কেব্‌লের বিল বাড়বে। ‘বিধাননগর কেব্‌ল অ্যান্ড ব্রডব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন’-এর মুখপাত্র সুজয় সাহা বলেন, ‘‘আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমাদের সমস্যার কথাও বিবেচনা করতে হবে। কেব্‌ল ব্যবসার সঙ্গে অসংখ্য মানুষ যুক্ত। তাই রুজি-রোজগারের বিষয়টিও প্রশাসনকে বিবেচনায় রাখতে হবে।’’

যদিও বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত বলেন, ‘‘মাটির তলা দিয়ে কেব্‌ল নিয়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে, পুরসভার রাজস্ব ক্ষতি কমবে এবং বাতিস্তম্ভগুলিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সমস্যা যা-ই থাক, ওই প্রকল্প নিশ্চিত ভাবেই করা হবে।’’