কোনওটি ৫৬৪ বার। কোনওটি ২২৬ বার। কোনওটির ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আবার ৭২৪!

এ হল এক একটি বেসরকারি বাসের গত কয়েক মাসে ট্র্যাফিক নিয়ম ভাঙার খতিয়ান।

অজস্র বার আইন ভাঙার পরেও অবশ্য বাসগুলি বহাল তবিয়তে চলছে শহরের রাস্তায়। অনেক সময়েই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে সেগুলি। তার বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর এমন দুর্ঘটনা ঘটার আগে পর্যন্ত এই নিয়ম ভাঙার বিষয়টি সামনেও আসে না।

কেন কোনও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না অবাধ্য বাসের বিরুদ্ধে?

লালবাজার জানিয়েছে, কোনও বাস বা গাড়ির বিরুদ্ধে বড় ট্র্যাফিক আইন ভাঙার অভিযোগ না থাকলে তা আটক করা হয় না। দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটলে তবেই সাধারণত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন সেটির সব নথি এবং বকেয়া মামলা খতিয়ে দেখা হয়। যদি দেখা যায়, মামলা বকেয়া রয়েছে, তবে তা খালাস করার পরেই গাড়ি ছাড়া হয়। পুলিশের এক কর্তা জানান, বেশির ভাগ বকেয়া মামলাই হল সাইটেশনের (রাস্তায় কোনও গাড়ি ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে পুলিশ ওই গাড়ির নম্বর দেখে ব্যবস্থা নেয়) মামলা। সেগুলি মেটানোর জন্য সময় পান বাস চালকেরা। এক সঙ্গে অনেকগুলি মামলা জমলে তবেই লোক আদালতে গিয়ে জরিমানার টাকা জমা দেন তাঁরা। কলকাতা পুলিশের ডিসি ট্র্যাফিক ভি সলোমন নেসাকুমার জানান, ওই সাইটেশনের মামলা যাতে বকেয়া না থাকে, তার জন্য পুলিশের তরফে অভিযুক্ত বাসের মালিকদের জরিমানা মিটিয়ে দিতে বলা হয়।

সোমবার দুপুরে গড়িয়াহাট মার্কেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাথে উঠে যায় একটি বেসরকারি বাস। যাতে জখম হন দু’জন। গাড়ির নথি বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, গত কয়েক মাসে ওই বেসরকারি রুটের বাসটি ৫৬৪ বার ট্র্যাফিক আইন অমান্য করেছে। যার প্রেক্ষিতে ট্র্যাফিক পুলিশ ২৯৪ বার ওই বাসের বিরুদ্ধে সাইটেশনের মামলা করেছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে জরিমানার টাকা না মেটানোয় আদালতের কাছে ওই বেসরকারি বাসের মালিকের বকেয়া রয়েছে আরও ২৭২টি মামলা।

সপ্তাহ দুয়েক আগে বড়বাজারে বেপরোয়া বেসরকারি বাসের ধাক্কায় মারা যান এক জন। লালবাজারের ট্র্যাফিক বিভাগের অফিসারদের দাবি, ওই বেসরকারি বাসটির বিরুদ্ধে বকেয়া মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৩০টি। এর মধ্যে সঠিক সময়ে জরিমানা জমা না দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে রয়েছে ২২৬টি মামলা।

একই ভাবে অক্টোবর মাসে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ও লেক ভিউ রোডের মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেপরোয়া ভাবে দু’টি গাড়ি এবং মোটরবাইক আরোহীকে ধাক্কা মারায় অভিযুক্ত বেসরকারি বাসটি তার আগে মোট ৭২৪ বার ট্র্যাফিক আইন অমান্য করেছিল।

পুলিশ সূত্রের খবর, উপরের ঘটনাগুলি কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। যে কোনও দুঘর্টনায় গাড়ি ধরা পড়লেই দেখা যাচ্ছে সেটির বিরুদ্ধে প্রচুর বকেয়া মামলা রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বাস। পুলিশের একাংশের দাবি, শহরের রাস্তায় সব চেয়ে বেশি ট্র্যাফিক আইন ভাঙে বেসরকারি বাসই। কিন্তু স্পট ফাইন ছাড়া সাইটেশনের মামলার জরিমানা সঠিক সময়ে বাস মালিকেরা দেন না বলে অভিযোগ। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘যদি দেখা যায় একই আইন আগেও অমান্য করেছে অভিযুক্ত গাড়িটি, সেক্ষেত্রে তার নথি বাজেয়াপ্ত করা হয় অথবা জরিমানার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’’

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নিয়মিত ট্র্যাফিক আইন ভাঙতে অভ্যস্ত যে চালকেরা, শুধু মাত্র জরিমানা করে তাঁদের কি আদৌ রোখা যাবে? অবাধ্য বাস আটক করতে যদি বড় কোনও নিয়ম ভাঙা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তা হলে পথ নিরাপত্তা বাড়ানো যাবে কী উপায়ে?