জি ডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশনে চার বছরের ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পরেই সুরক্ষা জোরদার করতে শুরু করেছে শহরের অন্য বেসরকারি স্কুলগুলি। কোথাও বসানো হচ্ছে অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা, কোথাও বা মহিলা কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার উপরে জোর দিচ্ছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, স্পর্শের রকমফের সম্পর্কে (‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’) ছাত্রীদেরও কাউন্সেলিং করা শুরু হয়েছে।

গত শুক্রবার থেকে জি ডি বিড়লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তা অবরোধ, প্রিন্সিপালের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ, অভিভাবকদের উপরে পুলিশের লাঠিচার্জের মতো ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। আর তার পরেই পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্কুল।

অভিনব ভারতী স্কুলের অধ্যক্ষা শ্রাবণী সামন্ত জানিয়েছেন, তাঁর স্কুলে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই ক্যামেরার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, স্কুলে মহিলা কর্মীর সংখ্যাও অনেকটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব ক’টি স্কুলবাসে যাতে মহিলা কর্মী থাকেন, তা-ও সুনিশ্চিত করছেন কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক যাতে না থাকে, সে দিকে নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি।

নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবে সচেতন থাকাটাও যে জরুরি, সে কথা উপলব্ধি করে পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন বরাহনগরের সেন্ট্রাল মডার্ন স্কুলের অধ্যক্ষ নবারুণ দে। তিনি জানান, স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এই বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যে তাঁদেরও, ফের তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের স্পর্শের রকমফের শেখাতে কাউন্সেলিং করা হবে বলেও জানিয়েছেন নবারুণবাবু। প্রসঙ্গত ‘গুড টাচ’ এবং ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে স্কুলপড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে ‘কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি’।

মডার্ন হাইস্কুল ফর গার্লসের অধিকর্তা দেবী করের দাবি, ওই স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার। তিনি জানান, এখন স্কুলে সব মিলিয়ে ৫২টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। প্রতিটি ক্লাসেও এ বার ক্যামেরা বসানো হবে। অনেকের গতিবিধিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে খবর।

একই ভাবে হেরিটেজ স্কুলের অধ্যক্ষা সীমা সাপ্রু জানিয়েছেন, ওই ঘটনার আগেই স্কুলের তরফে একটি ‘সেফটি কমিটি’ তৈরি করা হয়েছিল। জি ডি বিড়লার ঘটনার পরে বেশ কয়েক বার বৈঠক করেছেন তাঁরা। কোথাও কোনও গাফিলতি যাতে না থাকে, তার জন্য বারবার সকলকে সতর্ক করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী— সকলকেই পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষা।

তবে কোনও কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, তাঁদের নিরাপত্তায় কোনও খামতি নেই। মহাদেবী বিড়লা ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষা অঞ্জনা সাহা জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্টই রয়েছে। তাই নতুন করে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে না।

রাজ্যের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের তরফ থেকেও জানানো হয়েছিল, সমস্ত স্কুলের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে যাবে তারা। তার আগেই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছেন শহরের বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ।