দমকলের কন্ট্রোল রুমের কর্মী, বা অফিসার, সাব অফিসার, স্টেশন অফিসার— বিভিন্ন পদ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পদ খালি রয়েছে বলে দমকল সূত্রের খবর। এই সঙ্কট কাটাতে আপাতত তিন হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে দমকল। দমকলের ডিজি জগমোহন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘২০১৮ সালের মধ্যে সারা রাজ্যে দমকলের বিভিন্ন দফতরে তিন হাজার লোক নেওয়া হবে। দেড় হাজার ফায়ার অপারেটর নেওয়া হবে পিএসসি-র (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) মাধ্যমে। খুব তাড়াতাড়িই পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাকি দেড় হাজার অস্থায়ী দমকল সহায়ক নেওয়া হবে সামনের বছরের এপ্রিলের মধ্যে।’’

তবে মাত্র তিন হাজার কর্মী নিয়োগ করে দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার সমস্যার সমাধান কতটা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দমকল সূত্রের খবর, দুর্গাপর, শিলিগুড়ি, হাওড়া ও দমকলের সদর দফতর  মিলে পাঁচটি ডেপুটি ডিরেক্টর পদ ফাঁকা। গত পাঁচ বছরে রাজ্যে প্রায় ৩৫টি নতুন দমকল কেন্দ্র উদ্বোধন হয়েছে। আরও কয়েকটি দমকল কেন্দ্র উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আগুন লাগলে সবার আগে গাড়ি নিয়ে যিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছবেন, সেই চালকের পদও খালি রয়েছে প্রায় পাঁচশো। ফায়ার অপারেটের পদ খালি রয়েছে চার হাজার।
ফায়ার অপারেটরদের যিনি লিড করেন সেই লিডারই নেই প্রায় চারশো জন। এ ছাড়াও স্টেশন অফিসার ও সাব অফিসার মিলে প্রায় চারশো পদ খালি রয়েছে।

দমকলের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘ফায়ার অপারেটরের চার হাজার খালি পদের মধ্যে মাত্র দেড় হাজার নিয়োগ করা হবে। দমকলের এখন যা অবস্থা, তাতে অবিলম্বে সমস্ত শূন্য পদ পূরণ করতে হবে।’’ ২০১২ সাল থেকে তিন দফায় মোট ১৪৭২ জন অস্থায়ী দমকল সহায়ক (এএফপি) নিয়োগ করেছে দমকল বিভাগ। অস্থায়ী দমকলকর্মীদের তরফে অভিযোগ, ‘‘২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের বিভিন্ন    দফতরের অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো বা়ড়ানোর পাশাপাশি চাকরির মেয়াদ ষাট বছর করা হবে।’’ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার প্রায় দু’বছর পূর্ণ হতে চললেও তাঁদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অস্থায়ী দমকল সহায়করা।

এ প্রসঙ্গে দমকলের ডিজি জগমোহন বলেন, ‘‘এএফপি-দের পুরোপুরি অস্থায়ী হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ওঁরা কখনই চুক্তিভিত্তিক কর্মী নন। ওঁরা যে দাবি করছেন তা ঠিক নয়।’’ তবে অস্থায়ী দমকল কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করতে নবান্নে অর্থ দফতরের কাছে সুপারিশ করে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখে পাঠানো হয়েছে বলে জানান দমকলের ডিজি। তাঁর কথায়, ‘‘অস্থায়ী দমকল সহায়ক (এএফপি)-দের চাকরির স্থায়ীকরণে ইতিমধ্যেই দমকলমন্ত্রী নবান্নে সুপারিশ করেছেন।’’