যাত্রী বোঝাই বাস। গাড়ি চলছে বেশ জোর গতিতেই।  চালকের মোবাইল বেজে উঠল। এক হাতে স্টিয়ারিং, আর অন্য হাতে মোবাইলে কথা বলছেন চালক। এমন সময় হঠাৎ বাসের সামনে চলে এল একটি সাইকেল। ব্রেক কষলেন জোরে। জনা কয়েক বাস যাত্রী ছিটকে পড়লেন। কারও হাত কাটল। কারও মাথায় লাগল।  

দিন কয়েক আগেই মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন মানুষ। তারপরেও হুঁশ ফিরল না বাস চালকদের। সুন্দরবন জেলা পুলিশ সুপার তথাগত বসু বলেন, ‘‘চালকেরা কেউ মোবাইল ব্যবহার যাতে না করে তার জন্য নজরদারি চলছে। ধরা পড়লে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ছাড়াও বিভিন্ন সড়কেই নানা রুটের বাস-অটো চলাচল করে। ডায়মন্ড হারবার থেকে বাস যায় রায়দিঘি, নামখানা, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, ধর্মতলা-সহ বিভিন্ন এলাকায়। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় প্রত্যেক বাস চালকের পকেটেই থাকে মোবাইল।  সমস্ত রুটের বাস ছাড়ার পরে ধীরে ধীরে চলে। পিছনে কোনও বাস এসে গেলেই শুরু হয় রেষারেষি। বেপয়োরা ভাবে বাস চালানোর পাশাপাশি মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাস চালানোটাও এখন চালকদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীরা বারণ করলেও তাঁরা শোনন না। এক কলেজ পড়ুয়ারা কথায়, ‘‘বেশি কিছু বলতে গেলেই বাস চালক বা কর্মীরা এমন চোখ রাঙিয়ে কথা বলেন তাতে লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায় আমাদেরই। বাস থেকে নেমে যেতেও বলেন তাঁরা।’’

ডায়মন্ড হারবার থেকে কলকাতার নিত্য যাত্রী তন্ময় জানা, বিপুল সামন্তরা বলেন, ‘‘আইন করে বা নিয়ম করে কিছু পাল্টানো যাবে না। চাল‌কদের সচেতন হতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে চালকদেরই।’’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস চালক বলেন, ‘‘আমরা জানি গাড়ি চালানোর সময়  মোবাইলে কথা বলা বিপজ্জনক। কিন্তু খুব জরুরি ফোন না এলে ফোনে কথা বলি না।’’

 দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে প্রায় ৬৫টি রুটে কয়েক হাজার বাস, অটো চলাচল করে। বাস বা অটো ছাড়ার মুখে স্টার্টাররা বলেই দেন যে,  কোনও চালক গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার করবেন না। কিন্তু ওই পর্ষন্তই। কিছুটা এগিয়েই মোবাইলে কথা বলা শুরু করে দেন চালকেরা বলে জানান যাত্রীরা।

 এ বিষয়ে জেলা জয়েন্ট কমিটি অফ বাস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গায়েন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘‘চালকদের মোবাইল ব্যবহারে নিষেধ করা হয়। কোনও মতেই শোধরাতে পারছি না। ওঁরা বোঝেন না যে, কত মানুষের প্রাণের দায়িত্ব নিয়ে ওঁরা বাস চালান।’’  এ বার মোবাইল ব্যবহার করলে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে বলে তিনি জানান। নিয়মিত রাস্তায় পুলিশ এবং আঞ্চলিক পরিবহণ অফিসার (আরটিও) থেকে চেকিং করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান অশোকবাবু।

জেলার  আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক গৌতম ঘোষ বলেন, ‘‘আইন করে বা ধড়পাকড় করে চালকদের কিছু করা যাবে না। আমরা বাস-অটো সব সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছি। বাস ইউনিয়নের সদস্যদের জানানো হয়েছে বাস চালানোর সময় চালকের মোবাইলটি কন্ডাক্টটরের কাছে রাখতে হবে। সকলকে আরও সচেতন হতে হবে।’’ তবে আগে কোনও চালক গাড়ি চালানোর সময়ে মোবাইলে কথা বললে যাত্রীদের কথা শুনতেন না। এখন বাস দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রীর প্রাণহানির পর সে চিত্র কিছুটা বদলেছে বলে তাঁর দাবি।