দাদা ফোন করেছিলেন, ভাইকে জানাবেন, পাত্রী পছন্দ করে ফেলেছেন। এ বার ভাইয়ের বিয়ে পাকা।

ফোন অবশ্য ভাই ধরেনি। তারই এক সহকর্মী ফোন ধরে জানান, দুর্ঘটনায় জখম কিন্টু এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

সেটা সোমবার সন্ধ্যার ঘটনা। লড়াই শেষ হয়েছে বুধবার রাতে। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে মারা গিয়েছেন বনগাঁ থানার সিভিক ভলান্টিয়ার কিন্টু সরকার (৩৩)।

বৃহস্পতিবার দেহ থানায় আনার আগে থেকেই কিন্টু সহকর্মীরা ভিড় করেছিলেন থানা চত্বরে। বেলা দেড়টা নাগাদ শববাহী গাড়িতে দেহ আসার পরে অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল। মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বনগাঁর এসডিপিও অনিল রায়, প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল শেঠ, আইসি সতীনাথ চট্টরাজ। বহু সাধারণ মানুষও ফুল রাখলেন দেহের সামনে।

সোমবার সন্ধ্যায় বনগাঁ শহরের কালীবাড়ি মোড় এলাকায় বনগাঁ–চাকদহ সড়কে ডিউটি করছিলেন কিন্টু। গাড়ির কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। কয়েকজন পুলিশ কর্মীও ছিলেন। হঠাৎই একটি গাড়ি গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে ধাক্কা মারে কিন্টুকে। ছিটকে পড়েন ওই যুবক। নিমেষে এলাকা ছাড়ে গাড়িটি। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করার পরে সেখানেই মারা যান কিন্ট়ু। পুলিশ জানিয়েছে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। চালকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ করা হবে।

শিবপুর এলাকায় বৃদ্ধা মা শুভঙ্করীদেবীর সঙ্গে থাকতেন কিন্টু। তাঁরা ছ’ভাই, দু’বোন। সকলে অন্যত্র থাকেন। পরিবারের লোকজন জানালেন, ছোটবেলা থেকে কিন্টুর স্বপ্ন ছিল, পুলিশে চাকরি করবেন। সেই মতো নিজেকে তৈরি করছিলেন। এম পাস করে লাইব্রেরি সায়েন্স নিয়ে পড়েছেন। বছর তিনেক আগে বনগাঁ থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার্সের চাকরি  নেন। মাকে বলতেন, এখন সিভিক ভলান্টিয়ার হয়েছি ঠিকই, কিন্তু দেখো, মন দিয়ে কাজ করে একদিন পুলিশ হবই হব।

কিন্টুর সহকর্মী গৌবর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মাকে সব সময়ে ভাল রাখতে চাইত। আর কাজে খুব যত্ন ছিল।’’ কিন্টুর কাজের প্রশংসা করেছেন পুলিশ আধিকারিকেরাও। বেআইনি গাড়ি ধরতে, বেপরোয়া যাতায়াত রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন এসডিপিও।

কিন্টুর দাদা পিন্টু বলেন, ‘‘সোমবার সন্ধ্যায় রাজাপুরে ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। মেয়ে পছন্দও হয়েছিল। সন্ধ্যায় সেই খবর দিতে ফোন করে জানতে পারি, তার একটু আগেই দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। একটা সুখবর দিতে গিয়ে কী শুনতে হল!’’

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মাকে ছেলের কথা জানানো হয়নি। বাড়িতে লোকজনের যাতায়াত দেখে প্রশ্ন করছিলেন বার বার। শেষে যখন ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়া হল, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বৃদ্ধা।

বললেন, ‘‘ছেলেটার আর পুলিশ হওয়া হল না।’’