বাড়ির পাশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে  গ্রামীণ হোম স্টে গড়ে তুললেন কয়েকজন তরুণ-তরুণী। নামখানার পাতিবুনিয়ার এমন হোম স্টে হওয়ায় খুশি জেলা প্রশাসনও।

পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে এখন হোম স্টে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের। সে জন্যই গ্রামীণ হোম স্টে পর্যটন শুরু করেছেন এলাকারই প্রণয় দুলুই। এই প্রকল্পে রয়েছেন ছ’জন। তার মধ্যে দু’জন স্কুলের ছাত্রও রয়েছে। এক কলেজ পড়ুয়া তরুণীও যোগ দিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দ্বাদশ এবং একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্র দেবকুমার বেরা ও শোভন মাইতি  জানায়, এখানে এলে প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করছেন অতিথিরা। বাড়ির তৈরি খাবার রান্নার দায়িত্বে রয়েছেন একজন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা।

নিরিবিলি সৈকতে জনপ্রিয় হতেও শুরু করেছে তাঁদের ওই হোম স্টে। সম্প্রতি সেখানে থাইল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটক এসে ঘুরেও গিয়েছেন। পর্যটকদের স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য অখিলেশ বাড়ুই বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার এলাকায় ইকো ট্যুরিজ প্রকল্প গড়ায় উৎসাহ দিচ্ছে। এত অল্প বয়েসে পাতিবুনিয়ার ওই যুবকরা যা করছে তার পাশে আমরা রয়েছি।’’

কয়েক মাস হল নামখানার পাতিবুনিয়ায় প্রায় দু’বিঘে জমির উপর নিজেদের বাড়িতে হোম স্টের ব্যবস্থা করেছেন প্রণয়, শোভন, দেবকুমাররা। যা বকখালি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত। প্রণয় দলুই বলেন, ‘‘আমরা নিজেরা ছোটখাট কাজকর্ম করি। তার সঙ্গেই কয়েকজন মিলে একটি সংস্থার কাছে আর্থিক সাহায্য নিয়েই এই কাজে নেমেছি। মনোরম পরিবেশের সঙ্গেই স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও তুলে ধরতে চাই আমরা।’’

সমুদ্র সৈকতের কোলে ম্যানগ্রোভের ঘণ জঙ্গল। তার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ছোট ছোট জলধারা। মুড়িগঙ্গার শাখা চেনাই নদীর মোহনায় সমুদ্রের ভাঙা ঢেউ আর রঙিন গুল্মের ঘেরাটোপে উঠেছে ওই পর্যটন কেন্দ্রটি। গ্রামের একটি বড় অংশে আদিবাসীদের সাদামাটা জীবনযাত্রা। ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষামূলক ভ্রমণের জন্য আদর্শ। পরিবেশ বান্ধব সামগ্রী দিয়ে ৩০ জন থাকার মতো শিবিরে রয়েছে বিদ্যুতের ব্যবস্থা। তার বাইরেও রয়েছে চারটি টেন্ট। তাতে ১০ জনের মতো থাকার জায়গা। কেউ চাইলে পাশে পাকা ঘরেও থাকতে পারেন।

নামমাত্র খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে এলাকা ঘুরে দেখার জন্য দাঁড় টানা নৌকো। পায়ে টানা ভ্যান। এখন ফেসবুক এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকেই পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ওই দলটি। থাইল্যান্ড থেকে চারজনের একটি দল নভেম্বরে এসেছিল। সমুদ্র সৈকত থেকে ৫০০ মিটার দূরেই এরকম ব্যবস্থা পেয়ে প্রশংসাই করছে সকলে। নামখানা স্টেশন থেকে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদী পেরিয়ে বাস বা ছোট গাড়িতে করে নামখানা-বকখালি রোডের উপরেই দশ মাইল স্টপেজ। সেখান থেকে পিচ রাস্তায় অল্প সময়ে পাতিবুনিয়া পৌঁছে যাওয়া যায়। নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? প্রণয়বাবুরা জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে আগুন নেভানোর জন্য পাশের পুকুরে পাম্পসেট তৈরি করা হয়েছে। নৌকোয় দুর্ঘটনা এড়াতে লাইফ জ্যাকেট আনানো হচ্ছে। কিছু ফায়ার এক্সটিংগুইসারও লাগানো হচ্ছে।

অখিলেশবাবু জানান, পর্যটনকেন্দ্রটি রক্ষায় চেনাই নদীর ভাঙন রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।