রাত সাড়ে ১১টা। রক্তাক্ত গলা হাত দিয়ে চেপে ধরে দৌড়াচ্ছিলেন এক যুবক। সঙ্গে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তনাদ। রাস্তার পাশের এক বাসিন্দার বাড়ির গ্রিলে ধাক্কা দিতে থাকেন জখম যুবক। লোকজন বেরিয়ে আসেন। ততক্ষণে যুবকের গলা, হাত রক্তে ভেসে যাচ্ছে। স্থানীয় দুই বাসিনম্দা বাইকে চাপিয়ে বারাসত জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেছেন যুবককে।

মঙ্গলবার রাতে অশোকনগর থানার  চড়কপাড়া এলাকার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছেন কমল ঘোষ নামে ওই যুবক। গলায়, হাতে, পেটে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে বুধবার ভোরে দত্তপুকুর থানার নিবাধুই রাজু চট্টোপাধ্যায়কে নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বারসত জেলা হাসপাতালে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৪ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

কমল এবং রাজুর বাড়ি নিবাধুইতে। দুই বন্ধু রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কিছু দিন আগে রাজু ৩৩ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন কমলের কাছ থেকে। অভিযোগ, ওই টাকা রাজু ফেরত দিচ্ছিলেন না। লোক জানাজানি হয়। সেই রাগেই কমলের উপরে আক্রমণ শানান রাজু।

তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দু’জন বসিরহাটে ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাতের দিকে বাড়ি ফেরার পথে চড়কপাড়ায় প্রস্রাব করতে দাঁড়ান দু’জন। অভিযোগ, সে সময়ে রাজু অস্ত্র বের করে কমলের গলায় কোপ মারে। নিজেকে বাঁচাতে গেলে আরও কয়েক জায়গায় কোপ লাগে কমলের। সেখান থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় কোনও মতে পালান ওই যুবক।

কমলের শরীরের অসংখ্য সেলাই পড়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জেরায় রাজু স্বীকার করেছে, বাজারে ধারবাকি হয়ে গিয়েছে, সে কথা লোক জানাজানি হওয়াটা মেনে নিতে পারেননি তিনি। সে কারণেই এক সময়ের বন্ধুকে খুনের  পরিকল্পনা করেন।