সেই সিপিএম আর নেই। নেই তাদের সেই দাপটও।

পরিবর্তিত সিপিএম এখন সংগঠনের খরচা তুলতে তাদের পার্টি অফিস ভাড়া দিতেও দ্বিধা করছে না! এমনই এক সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন জোর বিতর্ক পূর্ব বর্ধমান সিপিএমের অন্দরে। দলের কার্যালয় কেন ব্যবসায়িক কাজের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে, গুসকরায় প্রশ্ন তুলেছেন দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তে সংগঠনের হাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হবে। যদিও দলের গুসকরা এরিয়া কমিটির দাবি, কার্যালয়টি এখন বিশেষ কাজে আসে না। আর্থিক সুরাহার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৯৯৯ সালের ১ মে গুসকরায় ‘রবীন সেন ভবন’ নামে এই কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। গুসকরা পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে তিন তলা ওই পার্টি অফিস থেকে সিপিএমের শহর লোকাল কমিটি ছাড়াও কয়েকটি শাখা সংগঠনের কাজও চালানো হত। বাম আমলে রমরম করত এই পার্টি অফিস চত্বর। লোকাল কমিটির দাপটে তখন কোণঠাসা বিরোধীরা। তবে যে ভাবে সব সময় লোকজন থাকত একটা সময়, রাজ্যে পালাবদলের পর তা অনেকটা কমে যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।

সিপিএম সূত্রে খবর, চলতি মাসে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় এই কার্যালয়টি এক বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি সিপিএমের দলীয় সংগঠনে লোকাল ও জোনাল কমিটির অবলুপ্তি হয়েছে। তার পরিবর্তে এরিয়া কমিটি তৈরি হয়েছে। ওই লোকাল কমিটির কার্যালয়ের প্রয়োজনও ফুরিয়েছে। সে জন্যই তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের গুসকরা পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘দিনের পর দিন সংগঠন চালানোর খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আর্থিক সমস্যার কারণেই ওই অফিসটি চালানো কঠিন হয়ে পড়ছিল।’’ সিপিএমের তরফে বলা হচ্ছে, গুসকরা শহরে তাদের দু’টি অফিস রয়েছে। আগের জোনাল কমিটির অফিসেই এখন থেকে এরিয়া কমিটির কাজ চালানো হবে। একটি অফিস ভাড়া দেওয়ায় ওই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণও ঠিক মতো হবে বলে মত নারায়ণবাবুর।

এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না এলাকার অনেক প্রবীণ বামপন্থী এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, দলীয় কর্মীদের পরিশ্রমের ফসল এই কার্যালয়। সেটা ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে লাগানো উচিত হয়নি। তা ছাড়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের ভঙ্গুর সংগঠন আরও বেআব্রু হল বলেও ওই অংশের মত। প্রত্যাশিত ভাবেই এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে গুসকরার তৃণমূল নেতা তথা কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘সিপিএমের এখন সংগঠন কোথায়? অফিস ভাড়া দেওয়া ছাড়া তাই উপায়ও নেই!’’

যদিও এলাকার সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, সংগঠনে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দলীয় সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে এবং দলের সমস্ত স্তরেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কার্যালয়টি লিজ নেওয়ার জন্য কয়েক জন আবেদন জানলেও দলের সমর্থকদের একাংশের দাবি মেনে দলের এক প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামীকেই তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক অবশ্য লিজ দেওয়ার কথা মানতে নারাজ হলেও বলেছেন, ‘‘এটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সংবাদমাধ্যমকে জানানোর বিষয় নয়।’’ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী জানান, লিখিত চুক্তি না হলেও ওই ভবনের চাবি দিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

শুধু ওই অফিস নয়, আউশগ্রামে সিপিএমের আরও কয়েকটি লোকাল কমিটির কার্যালয় অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। সেগুলিও ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে অবশ্য কেউ মুখ খোলেননি।