ঘর ভাড়া দিতে না চাওয়ায় এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠলো তাঁর প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। বাধা দেওয়ায় ওই মহিলা এবং তাঁর স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে মারধরও করা হয়। রবিবার রাতে মালদহের ইংরেজবাজার শহরের চার্চপল্লি এলাকায় এই ঘটনায় মহিলা জখম হয়েছেন। তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তাঁর ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক ভিকু কর্মকার ঘটনার পর থেকে ফেরার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার শহরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চার্চপল্লির বাসিন্দা ওই মহিলা কেবল ছেলেকে নিয়ে থাকেন। তাঁর ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্বামী অন্যত্র থাকেন। মহিলা দীর্ঘ দিন ধরে ইংরেজবাজার শহরে বাবার বাড়িতে থাকতেন। বাবা-মা দু’জনেই এখন মারা গিয়েছেন। মহিলা বাড়ি ভাড়া দিয়ে এবং একটি সংস্থায় ফিনাইল বিক্রি করে সংসার চালান।

সপ্তাহখানেক আগে মহিলার বাড়িতে ভাড়া নিতে যান প্রতিবেশী ভিকু। ভিকু একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন। বাড়ি ইংরেজবাজার ব্লকের শোভানগর গ্রামে। ভিকুরও বাবা-মা মারা গিয়েছেন।

ওই মহিলা ভিকুকে ঘর ভাড়া দিতে চাননি। অভিযোগ, সেই রাগে রাত ১২টা নাগাদ মদ্যপ অবস্থায় ভিকু বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। পরে মহিলা বাড়ির বাইরে আসলে তাঁর হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দেয়। মহিলা ও তাঁর ছেলেকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে গেলে ভিকু পালায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে মেডিক্যালে ভর্তি করান।

নির্যাতিতা মহিলা বলেন, “আমার বাড়িতে ভাড়া রয়েছে। তাই আমি ভিকুকে ভাড়া দিতে অস্বীকার করি। তার জন্য সে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। এ দিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় আমার শ্লীলতাহানি করে। আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করা হয়।” হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ জানাবেন। তবে কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, “পুলিশকে এখনই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।” মহিলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।