বাজারে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে গুলি বিদ্ধ হলেন এক তৃণমূল নেতা। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ নানুরের বনগ্রাম সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। ওই ঘটনায় তৃণমূলেরই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আভাস পেয়েছে রাজনৈতিক মহল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ মানেনি।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন কীর্ণাহার বাজারে মাছ বিক্রি করে মোটর বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন জলুন্দি গ্রামের বাসিন্দা তথা ওই গ্রাম কমিটির সভাপতি দেবব্রত ফৌজদার ওরফে ভুটান। বনগ্রামের কাছে উল্টোদিক থেকে মোটর বাইকে আসা দুই দুষ্কৃতী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তারপরই তারা চম্পট দেয়। দেবব্রতবাবুর দুই পায়ে গুলি লাগে। তাঁকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

ওই ঘটনার পিছনে তৃণমূলেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাজ করছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। তাঁদের মতে, নানুরে গোষ্ঠী রাজনীতিতে দেবব্রত গদাধর হাজরার অনুগামী হিসাবে পরিচিত। তার দাপটে বিরোধী গোষ্ঠীর কাজল সেখের অনুগামীরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে ঢুকতে পারছে না। সেই আক্রোশেই এ দিন তারা দেবব্রতকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ অনুগামী জানিয়েছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে দুষ্কৃতীরাই ওই ঘটনা ঘটিয়েছে।

একই বক্তব্য তৃণমূলের নানুর ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্যেরও। তিনি বলেন, ‘‘কিছু দুষ্কৃতীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রামবাসীরা দেবব্রতর নেতৃত্বে তাঁদের গ্রামছাড়া করে রেখেছেন। সেই আক্রোশেই ওইসব দুষ্কৃতীরা দেবব্রতকে গুলি চালিয়েছে বলে মনে হয়। তবে আসল ঘটনা কি তা পুলিশই বলতে পারবে।’’ পুলিশ জানায়, এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। হলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের ধরার ব্যবস্থা করা হবে।