ব্লকে মহিলা কলেজ কোথায় তৈরি হবে তা নিয়ে জমি পরিদর্শনের দিন থেকেই দ্বন্দ্ব তৈরি হল শাসকদলের অন্দরে। পাড়ার বিধায়ক উমাপদ বাউড়ির অনুগামী তথা পাড়া ব্লকের তৃণমূলের বড় অংশের দাবি, ব্লক সদর হওয়ায় কলেজ হোক পাড়াতেই। আর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সীমা বাউড়ি-সহ দলের অন্য অংশের দাবি, কলেজ তৈরি হোক পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কের পাশে ঝাপড়াতে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই অবশ্য বুধবার দুপুরে প্রস্তাবিত মহিলা কলেজের জন্য পাড়া ও ঝাপড়ার দু’টি জমি পরিদর্শন করেছে রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দফতরের একটি দল। 
গত বছর অগস্টে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাড়া ব্লক এলাকায় মহিলা কলেজ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিধায়ক। পরে উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে কলেজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি কোথায় আছে সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। পাড়া ব্লক প্রশাসন ব্লক সদর ও ঝাপড়া গ্রামের কাছে দু’টি জমির ব্যাপারে জানিয়েছিল। সেই মতো এ দিন জমি দু’টি পরিদর্শন করেন রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতরের ডিপিআই (ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশান)।
কিন্তু দুই জায়গার মধ্যে কোথায় শিকে ছিঁড়বে তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। এ দিন জমি পরিদর্শনের সময়ে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলকে ঘিরে পাড়া ও ঝাপড়ায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকেরা নিজেদের জায়গায় কলেজ গড়ার দাবি জানান। পাড়াতে স্থানীয় স্কুলের ছাত্রীরাও সেই দাবি জানানোর দলে সামিল হয়েছিল। 
প্রশাসন সূত্রের খবর, কলেজ তৈরির জন্য প্রায় পাঁচ একর জমি দরকার। সেই দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে পাড়া। ব্লক অফিসের পাশে বিভিন্ন দফতরের জমি মিলিয়ে আট একর মতো রয়েছে। অন্য দিকে, ঝাপড়াতে জমির রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন একর। তবে সভাপতি অনুগামীদের দাবি, ঝাপড়ায় বাকি জমি পেতে সমস্যা হবে না। স্থানীয় লোকজন কলেজের জন্য জমি দিতে রাজি।
তৃণমূল সূত্রের খবর, বিধায়ক নিজে চাইছেন পাড়ায় কলেজ তৈরি হোক। তাঁর অনুগামীদের যুক্তি, কলেজের জন্য দেখা জমির কিছু দূরেই থানা ও ব্লক অফিস। ফলে ছাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সুবিধা হবে। তৃণমূলের পাড়া ব্লক সভাপতি রামলাল মাহাতো বলেন, ‘‘ব্লক সদর হওয়ায় থানা, ব্লক অফিস, হাসপাতাল ইত্যাদি এখানে আছে। তাই কলেজ হলে কাজে অনেক সুবিধা হবে।’’ সেখানে কলেজ হলে পাড়ার পাশাপাশি রঘুনাথপুর ২ ব্লক ও পুরুলিয়া মফস্সল থানার একাংশের ছাত্রীদের যাতায়াতেরও সুবিধা হবে বলে তাঁদের দাবি।
অন্য দিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সীমা বাউ়়ড়ি-সহ তৃণমূলের পাড়া ব্লকের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, পাড়ার তুলনায় ঝাপড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে দৌড়ে অনেক এগিয়ে। ফলে অধিকাংশ এলাকার ছাত্রীদের যাতায়াতে সুবিধা হবে। সীমাদেবী বলেন, ‘‘কলেজ শুধু ব্লকের জন্য নয়। গোটা জেলা থেকই ছাত্রীরা আসবেন। পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কের পাশে জমিটা থাকায় বাস যোগাযোগ অনেকটাই উন্নত। ঝাপড়া থেকে কিছু দূরেই দু’টি রেল স্টেশন। সব মিলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই ভাল বলে ছাত্রীদের স্বার্থে আমরা ঝাপড়ায় কলেজ তৈরির জন্য বলেছি।”
উমাপদবাবুর বক্তব্য, ‘‘দু’টি জমিতেই পরিদর্শন হয়েছে। কোথায় কলেজ হবে তা নিয়ে উচ্চশিক্ষা দফতরই সিদ্ধান্ত নেবে।”