দেড় দশক পেরিয়ে গিয়েছে। আবার ট্রেনে সওয়ার মহারাজ।

কলকাতা থেকে বালুরঘাট যাওয়ার জন্য শুক্রবার ষোলো বছর পরে ট্রেনে চড়লেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে চড়েছিলেন ২০০১ সালে। তখন তিনি ভারত অধিনায়ক। ভাইজাগ থেকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ওয়ান-ডে খেলে ট্রেনে কলকাতা ফেরেন তিনি। আর শুক্রবার রাতে পদাতিক এক্সপ্রেস ধরে তিনি পৌঁছলেন মালদহ। সেখান থেকে গাড়িতে বালুরঘাট। পদাতিক এক্সপ্রেসে তাঁর জন্য বুকিং করা হয়েছে আস্ত একটা কামরা। তাঁর যাওয়ার কথা ছিল অবশ্য হেলিকপ্টারেই। তবে আবহাওয়া অনুকূল না হওয়ায় ট্রেনে যেতে হচ্ছে মহারাজকে। সৌরভের অবশ্য তা নিয়ে কোনও সমস্যাই নেই। বলেছেন, ‘‘অনেকদিন পর ট্রেনে যাওয়া। ভালই লাগছে।’’ 

প্রথমে অবশ্য বালুরঘাট যেতে রাজি হননি সৌরভ। তবে পরে তিনি মত দেন। সৌরভ বলেন, ‘‘আয়োজকরা এত আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেন যে যেতে রাজি হই।’’ এ দিন সকালে গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান করে বালুরঘাটের সার্কিট হাউসে উঠবেন সৌরভ। এরপর নিজের পূর্ণাবয়ব মূর্তি উদ্বোধন করে তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ফেডারশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করবেন। রাজ্যের ২১টি জেলা থেকে ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা বালুরঘাটে চলে এসেছেন। বাংলার আইকন সৌরভের উদ্যোগে জেলাস্তরে হারিয়ে যেতে বসা ফুটবল হকি ভলি কাবাডির মতো খেলাগুলিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়া করানোর লক্ষ্য নিয়ে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারাণ সম্পাদক গৌতম গোস্বামী রাজ্যের স্পোর্টস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকও। তিনি বলেন, ‘‘ক্রিকেটের বাইরে জেলাস্তরে ফুটবল, ভলি, হকি, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্সের মতো খেলাগুলি অর্থের অভাবে ধুঁকছে। আইএফএ থেকেও গত তিন-চার বছরে ফুটবলের জন্য জেলাগুলিতে কোনও টাকা আসেনি। ক্রিকেট থেকে পাওয়া অল্প টাকায় জেলায় খেলাগুলি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে গতবছর সৌরভের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। সৌরভ একটি কোম্পানির মাধ্যম ১৮ লক্ষ টাকার স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’’ তিনি জানান, ইতিমধ্যে ৯ লক্ষ টাকা ফেডারেশনের অ্যাকাউন্টে ঢুকেও গিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই খেলাগুলির চর্চা বাড়াতে প্রতিটি জেলাকে সমপরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। কোনও জেলা কোনও খেলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করে প্রকল্প জমা দিলে ওই টাকা থেকে সহায়তা করা হবে বলে গৌতম জানান। ফেডারেশন কর্তৃপক্ষকে সৌরভ জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে খরচ ও হিসেব দিতে হবে। প্রতি বছর টাকা পেতে থাকবে ফেডারেশন।

মহারাজের জন্য অবশ্য আয়োজনে ত্রুটি নেই দক্ষিণ দিনাজপুরে। আত্রেয়ী নদীর বিখ্যাত রাইখর মাছের নানা পদে সৌরভকে আপ্যায়ণ করা হবে। দুপুরের খাবারের মেনুতে দু’রকম মাংস, ইলিশ মাছ থাকবে। শিলিগুড়ির বাসিন্দা, ভাস্কর সুশান্ত পাল সৌরভের ছবি দেখে আট ফুট উঁচু ফাইবারের মূর্তিটি গড়েছেন। অনুষ্ঠানের দিন সৌরভের সঙ্গে মঞ্চে থাকবেন সুশান্তও। তাঁর কথায়, ‘‘এতদিন যাঁকে টিভিতে দেখেছি, তাঁকে সামনে দেখব ভাবতেই নার্ভাস লাগছে।’’

তবে বালুরঘাটে সৌরভের আসার আগে শেষ মুহূর্তে স্টেডিয়ামের গেটে মূর্তি বসানো নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। স্টেডিয়াম চত্বরে মূর্তি বসানো নিয়ে প্রশাসনের কাছে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে সূত্রের খবর। গৌতমবাবু বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসনের তরফে চিঠি দিয়ে সৌরভের মূর্তি ওই জায়গায় বসানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। কেন এটা করা হলো জানা নেই।’’ জেলাশাসক সঞ্জয় বসু বলেন, ‘‘সৌরভের সফর সরকারি নয়। এর বেশি আমি কিছু বলব না। ’’স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট জায়গার পরিবর্তে মঞ্চে সৌরভের মূর্তি রেখে উদ্বোধনের আয়োজন করছে ডিএসএ।

সৌরভ ফিরবেন ট্রেনেই। বিকেলে সড়ক পথে মালদহ গিয়ে থেকে দার্জিলিং মেল ধরার কথা তাঁর।