পুরু কাচের ঘেরাটোপ। কয়েকটি বাতানুকূল যন্ত্র বসানো এ দিক ও দিক। তবু দরদর করে ঘামছেন যাত্রীরা। বাইরে তখন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি। ভিতরের উষ্ণতা তখন আরও বেশি। বাগডোগরা বিমানবন্দরের ভিতরে রবিবার এমনই ছিল যাত্রীদের অভিজ্ঞতা। অভিযোগ, বিমানবন্দরের বাতানুকূল ব্যবস্থা বিগড়ে গিয়েছে। তার জেরেই বিমানবন্দরে পা দিতেই শুরু হচ্ছে ভোগান্তি।

গত কয়েক বছরে বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে লাফিয়ে। বছরে ১৫ লক্ষ যাত্রী ওঠা-নামা করে সর্বকালীন রেকর্ডও তৈরি করেছিল এই বিমানবন্দরে। উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে বিমান এবং যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও, পরিকাঠামোর খামতি রয়েই গিয়েছে বলে দাবি।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজও চললেও অত্যন্ত ঢিমেতালে বলে অভিযোগ। বিরক্ত রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবও। তাঁর কথায়, ‘‘বিমানবন্দরের স্বাচ্ছন্দ্য পর্যটনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব, প্রয়োজন মতো পদক্ষেপও হবে।’’

দিল্লিগামী বিমান ধরতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন সিকিমের এক প্রশাসনিক আধিকারিক।

ইউরোপ থেকে একটি নামজাদা সমীক্ষা সংস্থা পর্যটন নিয়ে নানা পরামর্শ দিতে সিকিমে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লি যাচ্ছিলেন ওই কর্তা।

বিমানবন্দরে পৌঁছে গরমের দাপটে কোট টাই খুলতে শুরু করেন সমীক্ষা সংস্থার দলটির কয়েকজন। বিব্রত আধিকারিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নালিশও জানান। দিন দুয়েক আগের এই ঘটনার পরে রবিবারও ছিল এমনই চিত্র। লাউঞ্জ তো বটেই সিকিউরিটি চেকড এনক্লেভ অর্থাৎ তল্লাশি পার হয়ে যে খানে যাত্রীরা বিমানের জন্য অপেক্ষা করেন সেখানেও বাতানুকুল যন্ত্র কাজ করছিল না বলে অভিযোগ।

এ দিন দুপুরে যাত্রীদের কয়েকজন ঘেমে নেয়ে ক্ষোভও দেখান। বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায় বলেন, ‘‘ভবনটি পুরোনো হওয়ায় কেন্দ্রীয় ভাবে বাতানুকুল ব্যবস্থা করা যায়নি। আমরা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুরো ব্যবস্থা পরীক্ষা করাতে বলেছি। কোথাও কোনও গোলযোগ থাকলে ব্যবস্থা হবে।’’