সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। দুপুরের পর ঝোড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টি চলল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের আকাশে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। তার জেরেই বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়বাস্প ছুটে আসছে।

শনিবার সকালে ডুয়ার্সে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বিকেল নাগাদ শিলা বৃষ্টি শুরু হয় কোচবিহারে। শিলের আকার অবশ্য বড় ছিল না। জলপাইগুড়িতেও কয়েক দফায় বৃষ্টি হয়েছে। বিকেল নাগাদ কালো মেঘে ঢেকে যায় শিলিগুড়ির আকাশও।

দুপুর বারোটা থেকে আধঘণ্টা শিলাবৃষ্টি চলেছে ময়নাগুড়ি-লাটাগুড়ি এলাকায়। ঝোড়ো হাওয়ায় গরুমারা জাতীয় উদ্যানের কিছু গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। ডাল পড়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাওয়া সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য।

বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় বৃষ্টি চলেছে ডুয়ার্সে। দুপুরে আকাশের রং এতটাই কালো হয়ে যায় হেডলাইট জ্বালিয়েও জাতীয় সড়কে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা লাফিয়ে কমেছে ডুয়ার্সে। শিলিগুড়িতে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি না হলেও আকাশ মেঘলা ছিল। হাওয়ায় কনকনে ভাব ছিল।

সিকিমেও বৃষ্টি হয়েছে এ দিন। গত কয়েক দিন ধরেই উত্তর সিকিম-সহ উঁচু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে তুষারপাতও হয়েছে। সে কারণেই সমতলের হাওয়ায় কনকনে ভাব ছিল বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ডুয়ার্স, কোচবিহার, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়িতেও ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা জানিয়ে গত শুক্রবারই সিকিম প্রশাসনের তরফে সর্তকবার্তা জারি করা হয়েছিল।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের প্রাক্তন প্রধান সুবীর সরকার বলেন, ‘‘নিম্নচাপ যত দিন থাকবে ঝোড়ো হাওয়া শিলাবৃষ্টি চলতেই থাকবে।’’ এই নিম্নচাপ সরে গেলে শীঘ্রই আরও একটি নিম্নচাপ উত্তরবঙ্গের আকাশে তৈরি হতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।