ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ নিয়ে চাপানউতোরও তুঙ্গে উঠেছে শিলিগুড়িতে।

বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা এবং সচেতনতা প্রচারের কাজে রাজ্য ৬০ লক্ষ টাকা দেয় শিলিগুড়ি পুরসভাকে। সেই কাজ ঠিক মতো হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন পর্যটনমন্ত্রী। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য ফের ৫০ লক্ষ টাকা চেয়ে পুর দফতরে আবেদন করায় আগের টাকাই ঠিক মতো খরচ করা হয়নি বলে পুরসভার বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার সরব হয়েছেন। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিদিন ৭৫ টাকায় ৮১০ জন কর্মী সমীক্ষার কাজ করছেন। পাঁচ দিন করে মাসে দু’বার ইতিমধ্যেই ৯ দফা কাজ হয়েছে। তাতে ২৭ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দিতে হয়েছে। তা ছাড়া লিফলেট, পোস্টার, গাড়ি ভাড়ার খরচ রয়েছে। আরও তিন দফায় সমীক্ষা হবে। তার পরেও টাকা বাঁচলে কাজ চলবে।

বুধবার শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তরফে শহরে সচেতনতা এবং ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে। এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী এদিন ১৮ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুরে ডেঙ্গি, জ্বর পরিস্থিতির খোঁজ নেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ডেঙ্গি, জ্বর প্রতিরোধের কাজে শিলিগুড়ি পুরসভা ব্যর্থ। রাজ্য টাকা দিলেও তারা কাজ করতে পারেনি। তাই আমরা কাজ করতেই পারি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসজেডিএ ওই কাজ করবে। পুর এবং নগরোন্নয়ন দফতর থেকে এসজেডিএ’কে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিইও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের পরামর্শ মেনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাজ হবে। ইতিমধ্যেই মশা মারার তেল, ব্লিচিং কেনা হয়েছে।’’ তিনি জানান, এসজেডিএ’র তরফে সমীক্ষা করে শহরে ১০৮৭ টি জায়গায় আবর্জনা জমে রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুরসভাকে জানালে তারা জেসিপি, কর্মীর অভাব থাকায় সমস্যার কথা জানিয়েছে। এসজেডিএ ওই সাফাইয়ের কাজ করে দেবে বলে আশ্বাস দেন। তবে পুরসভার হাতে তাঁরা অর্থ দেবেন না।

মেয়র বলেন, ‘‘পুরসভার মাধ্যমেই কাজ করার কথা। বুধবার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরে বৈঠকে পুর কমিশনারও গিয়েছিলেন। সেখানে জানানো হয়েছে এসজেডিএ’র তরফে লোক, জেসিপি দেওয়া হবে। মশা মারার তেল স্প্রে, ব্লিচিং ছড়নো পুরসভার মাধ্যমেই করা উচিত। পুরসভার সমান্তরালে প্রশাসন চালানোর চেষ্টা হলে তা কাম্য নয়।’’  পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মন্ত্রী ও এসজেডিএ’র চেয়ারম্যানের এই তরজায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে বাসিন্দারা।

এদিকে মোহিতনগর এলাকায় ডেঙ্গির প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের একাংশ৷ জানা গিয়েছে, কিছুদিনের মধ্যে ওই এলাকায় ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা চার থেকে বে়ড়ে ১২ হয়েছে ৷ ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তালমাতেও৷

জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর এখনও পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩০ জন৷ স্বাস্থ্য দফতরের চিন্তাটা অন্য জায়গায়৷ ওই দফতরের এক কর্তা জানান, এতদিন সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হতো৷ কিন্তু এ বার অগষ্টে তার চেয়েও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন৷ এই অবস্থায় সেপ্টেম্বরে যাতে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে না যায় সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি৷