উত্তরবঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে কৃষি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনের চেষ্টার প্রশংসা করলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি, সিপিএম নেতা তাপস সরকার। বৃহস্পতিবার মাটিগাড়ায় রাজ্যের শিল্প বাণিজ্য দফতরের উদ্যোগে উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন নিয়ে দু’দিনের সম্মেলন শুরু হয়। সেখানে বিভিন্ন শিল্পোদ্যোগীর তরফ থেকে ১৩৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে আনারস এবং কৃষিজ ফসলের প্রাচুর্যের কথা তুলে ধরেন। তারপরেই বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে অনেকেই উপকৃত হবেন। এর সাফল্য কামনা করি।’’

রাজ্যের পূর্ত এবং ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, এ দিন দুপুরে তাঁর এবং পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের কলকাতায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে এই সম্মেলনকে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছেন যে তাঁদের সূচি বদলে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘‘সভাধিপতি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রয়াসকে এগিয়ে নিতে সকলকে আহ্বান করেছেন।’’ পর্যটনমন্ত্রীর মতে, ‘‘যেটা সত্যি সভাধিপতি তাই বলেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ।’’

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ড্রাস্ট্রিজের উত্তরবঙ্গ শাখা,  ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার সেন্টার অব এক্সিলেন্সের সহায়তায় আয়োজন করা হয়েছে এই সম্মেলনের। এ ছাড়া রাজ্যের ন’টি দফতর সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। অরূপবাবু জানান, এখানে ইতিমধ্যেই ১৩৬১ টি কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আরও অনেকে উদ্যোগে সামিল হবেন বলে তিনি আশাবাদী।

শিল্প বাণিজ্য দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজীব সিংহ জানান, যে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে রয়েছে, প্রাণী সম্পদ বিষয়ক উদ্যোগে ৭৯.০৫ কোটি টাকা, হিমঘর তৈরিতে ৬৪.০৫ কোটি টাকা, ‘ফুড অ্যান্ড বেভারেজ’ সংক্রান্ত প্রকল্পে ১৮৬.৮৫ কোটি টাকা, উদ্যান পালনে ১৪.৮১ কোটি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ৩০৪.৫৯ কোটি এবং চালকল ও চালজাত পণ্য প্রস্তুতের জন্য ৭৯.৮৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৫০ জন উদ্যোগী ৮২৭ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করবেন। তা ছাড়া পিপিপি মডেলে আরও ৫৩৪ কোটি টাকা কৃষি ব্যবসার পরিকাঠামো গড়তে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নেপাল এবং ভূটান থেকেও ৬ জন শিল্পোদ্যোগী অংশ নিয়েছেন বলে জানানো হয়।