নতুন করে আর গুলির শব্দ পাওয়া যায়নি৷ তবে কোনও চোরাশিকারিও ধরা পড়েনি৷ যদিও চোরাশিকারির সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে ধূপঝোরা (১) বিট সহ আশপাশের জঙ্গলে৷ বন দফতরের পাশাপাশি পুলিশ ও সিআইএসএফ মিলিয়ে যৌথ টহল চালিয়ে যাচ্ছে৷

কিছু দিন আগেই গরুমারার জঙ্গলে দু’টি গন্ডারের দেহ উদ্ধার হয়৷ ওই ঘটনার পরে জঙ্গলে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা জানায় বন দফতর৷ তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে ধূপঝোরা ১ বিটে হাতির পিঠে চেপে টহল দেওয়ার সময় আচমকাই গুলির শব্দ পান এক বনকর্মী৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি খবর দেন বনকর্তাদের৷ তাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও এসএসবি জওয়ানরাও৷ শুরু হয় জঙ্গলে যৌথ তল্লাশি৷

এরই মধ্যে বনকর্মীদের একটি দল ধূপঝোরা ১ বিটে একক ভাবে তল্লাশি চালানোর সময় তিন জন তাদের নজরে আসে৷ বনকর্মীদের দেখে তারা পালাতে শুরু করলে বন কর্মীরা শূন্যে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে একটি সূত্রের দাবি৷ যদিও মূর্তি নদী পার হতেই বন্ধনী মুণ্ডা নামে এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন বনকর্মীরা৷ বন দফতর সূত্রের খবর, এ দিন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

বন দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে তাঁদের সন্দেহ, চোরাশিকারের উদ্দেশ্যেই কেউ কেউ ওই অরণ্যে ঢুকেছিল৷ তারা কারা, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান ওই আধিকারিক৷ বন দফতর একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার গরুমারা উত্তর রেঞ্জ এলাকা থেকে আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়৷ এ দিন তাদের একজনকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷

এ দিকে, বৃহস্পতিবার রাতের পর এ দিন সকাল থেকে ফের ধূপঝোরা ও আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করেন বনকর্মীরা৷ এ দিন বনকর্মীদের সঙ্গে জঙ্গলে টহলদারিতে ছিল পুলিশ ও সিআইএসএফও৷ তবে দিনভর তল্লাশি চললেও এ দিন কোনও চোরাশিকারির সন্ধান মেলেনি৷

গরুমারার সুরক্ষায় মূর্তি নদী থেকে নাগরাকাটা যাওয়ার রাস্তায় নজর মিনার বাড়ানোর দাবি উঠেছে বনকর্মীদের একাংশের মধ্য থেকে৷ যদিও বনকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গলের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে৷ বন দফতরের উত্তর মণ্ডলের বনপাল সুমিতা ঘটক বলেন, ‘‘এ বার থেকে আমরা মাঝে মধ্যেই অন্য নিরাপত্তা এজেন্সির সঙ্গে জঙ্গলে আচমকা টহলদারি চালাবো।’’