যে পথ পেরোতে এক ঘণ্টা সময় লাগার কথা, সেই পথ পেরোতেই সময় লেগে গেল চার-পাঁচ ঘণ্টা৷ ফলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে না পেরে জলপাইগুড়িতে ফরেস্ট গার্ড নিয়োগের পরীক্ষা দিতেই পারলেন না কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী৷ ফলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হল জলপাইগুড়ির একাধিক স্কুলে৷

সামান্য দেরির জন্যও পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা পেয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা৷ পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷ রবিবার জলপাইগুড়িতে ৫৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ফরেস্ট গার্ড নিয়োগের পরীক্ষা হয়৷ এর মধ্যে ৪৩টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল জলপাইগুড়ি সদরে৷ বাকি ১২টি কেন্দ্র ছিল ময়নাগুড়িতে৷ জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি জেলাতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার৷ যাদের একটা বড় অংশই শিলিগুড়ির বাসিন্দা৷ এ ছাড়াও মালবাজারের পরীক্ষার্থীরাও জলপাইগুড়িতে পরীক্ষা দেন৷

পরীক্ষা শুরু হয় দুপুর ১২টায়৷ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের রিপোর্টিং টাইম ছিল বেলা সাড়ে ১১টা৷ সেই অনুযায়ী সকাল থেকে শিলিগুড়ির পরীক্ষার্থীরা বাসে চেপে জলপাইগুড়িতে আসতে শুরু করেন৷ কিন্তু ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে যানজটের জেরে প্রচুর পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর আগে তো দূরের কথা, যখন পৌঁছন, তখন পরীক্ষার সময় শেষ৷ দেরিতে পৌঁছনোয় পরীক্ষা দিতে পারেননি পূজা পারভিন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘লরির জটেরাস্তা আটকে ছিল। শিলিগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি পৌঁছতে অনেকের চার-পাঁচ ঘন্টা সময়ও লেগে গিয়েছে৷’’ আরেক পরীক্ষার্থী মুনমুন রায় বলেন, ‘‘যান-জট ছাড়াতে পুলিশ কোন ব্যবস্থাই নেয়নি৷’’ যদিও জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যান-জটের জন্য অনেক পরীক্ষার্থী দেরিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছেছেন বলে শুনেছি৷ কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলার অংশে রাস্তার কোথাও যান-জট হয়নি৷’’

খোদ পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রাস্তায় যান-জটের কারণে এদিন চার হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি৷ পুলিশ কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, শিলিগুড়ির দিকেই ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে যান-জট হয়৷ যার প্রভাব পড়ে জলপাইগুড়ির পরীক্ষায়৷

পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে না পেরে এদিন জলপাইগুড়ির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা৷ পুলিশের সামনেই জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল গার্লস স্কুলের বন্ধ গেট ধাক্কা দিয়ে খুলে এক দল পরীক্ষার্থী ভিতরে ঢুকে যান বলে অভিযোগ৷ পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে৷ অরবিন্দ স্কুল, ভুজারী পাড়া স্কুল সহ বিভিন্ন স্কুলে উত্তেজনা ছড়ায়৷ পরীক্ষাকে ঘিরে গোলমাল রুখতে এদিন জেলার বিভিন্ন থানায় আইসি ও ওসিদের জলপাইগুড়ি পাঠানো হয়৷ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে করতে জলপাইগুড়িতে আসেন মালবাজারের এসডিপিও দেবাশিস চক্রবর্তীও৷ যদিও দেবাশিসবাবু বলেন, ‘‘জলপাইগুড়িতে এদিন শান্তিপূর্ণভাবেই ফরেস্ট গার্ড নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে৷’’