দিনভর বৃষ্টি জল ঢেলেছে শেষ প্রচারে। একই সঙ্গে আতঙ্ক, মাঝে তো মাত্র আর একটা দিন। জলবন্দি অবস্থায় বুথমুখো হতে পারবেন তো মানুষ? তাই পুরভোটের দু’দিন আগে রাজনীতির লড়াই যেখানে থমকে গিয়েছে, সেখানেই হাঁকিয়ে ব্যাটিং শুরু করল বৃষ্টি। কারণ বৃষ্টি মাথায় রেখেই নতুন সমীকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে ধূপগুড়িতে।

বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শুক্রবার শেষ দিনের প্রচার সারলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা৷ ভোট প্রচারে বৃহস্পতিবার রাতেই ধূপগুড়ি পৌঁছোন বিজেপির মহিলা মোর্চা নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ আবহাওয়ার জন্য বিমান আসতে দেরি করায় পূর্ব নির্ধারিত রোড শো করলেও তা খুব একটা মনঃপুত হয়নি বিজেপি নেতাদের৷ তবে শুক্রবার শেষ দিনের প্রচারে সকাল থেকেই গাড়িতে চেপে শহরে দাপিয়ে বেড়ান লকেট৷ একের পর এক ওয়ার্ডে ঘোরেন তিনি৷ কখনও কাচ নামানো জানালা দিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তো কখনও আবার গাড়ির পাদানিতে দাঁড়িয়েই মানুষকে দলের বার্তা দেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘বাধা এলে ভয় পাবেন না৷ সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেন৷’’

ভক্ত: ধূপগুড়িতে ভোটের প্রচারে এসে ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়। শুক্রবার। ছবি: দীপঙ্কর ঘটক।

তবে তৃণমূল যে এ সবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ, তা এ দিন বুঝিয়ে দেন তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায়৷ মুকুলবাবুর দাবি, ধূপগুড়ি পুরসভার বিগত তৃণমূল বোর্ড উন্নয়নের যে কাজ করেছে, তা দেখেই মানুষ তাদের সব আসনে জয়ী করবে৷ শেষ দিনের প্রচারে এ দিন ধূপগুড়ির জনসভায় নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুকুল রায় বলেন, ‘‘একটা রাজনৈতিক দল দাবি করেছিল, বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনবে৷ কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বিদেশে কালো টাকা আরও গচ্ছিত হচ্ছে৷’’

শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় ভোটের প্রচার শেষ হতেই বিভিন্ন পার্টি অফিসে শুরু হয় আলোচনা। দুর্যোগের সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাবে কোন পক্ষ? সিপিএমের জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘‘ধূপগুড়িতে গত দু’দিনের বৃষ্টিতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে করে মানুষ ভোট দিতে পারলে তৃণমূলের উন্নয়নের ঝাঁপি ফেটে চৌচির হয়ে যাবে৷’’ বিজেপির জেলা সম্পাদক আগুন রায় বলেন, ‘‘ভোটের ঠিক প্রাককালে এই দুর্দশার জবাব মানুষ ভোটের বাক্সেই দেবেন৷’’ যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রবল বর্ষণের জন্য শহরের কিছু নিচু এলাকায় জল জমেছে৷ এবং আমাদের কর্মীরা যে ভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে করে মানুষ বুঝতে পারছে তৃণমূলই মানুষের বন্ধু৷ তাছাড়া আবার ক্ষমতায় এসে তৃণমূলই ধূপগুড়ি শহরে নিকাশি নিয়ে মাষ্টার প্ল্যান তৈরি করবে৷’’