টাকা তুলতে গিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। জমা করতে গিয়েও একই অভিজ্ঞতা। সবেতেই সমস্যা ‘লিঙ্ক নেই’। এর জেরে দু’ সপ্তাহের বেশি সময় তুফানগঞ্জ ডাকঘরে কোনও পরিষেবাই মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা জানান, রোজই নিয়ম করে ডাকঘরে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। এমআইএস প্রকল্পে জমা রাখা মাসিক সুদ তোলা নিয়েও চিন্তা বেড়েছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অনেকের।

কবে ওই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে সে ব্যাপারেও স্পষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তাই গ্রাহকদের চিন্তা আরও বেড়েছে। ডাকঘর সূত্রের খবর, ১ জুন রাতে বাজ পড়ে অনলাইন সংযোগের ‘মোডেম’ বিকল হয়ে যায়। তার জেরেই লিঙ্ক পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই সমস্যা তৈরি হয়েছে। ২ জুন থেকে স্বাভাবিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কিন্তু এতদিনেও সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না কেন?

ডাক বিভাগের খবর, ওই নির্দিষ্ট ‘মোডেম’ সরবরাহ হয় চেন্নাইয়ের একটি সংস্থার মাধ্যমে। তার জন্যই কিছুটা সময় লাগছে। ডাক বিভাগের কোচবিহারের সহকারি সুপারিন্টেডেন্ট ধনঞ্জয় বর্মন বলেন, “ওই মোডেম খোলা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে চেন্নাই থেকে আনতে হয়। ওই ব্যাপারে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটবে।” গ্রাহকদের বক্তব্য, ওই যুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ডাকঘরের পরিষেবা দিনের পর দিন ব্যাহত হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। আগাম কিছু মোডেম মজুত করে রাখা হলে জরুরি ভিত্তিতে কোথাও সমস্যা হলে কাজ চালানো যাবে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করারও দরকার হবে না।

তাঁদের অভিযোগ, আগেও মাঝেমধ্যে লিঙ্ক না থাকায় সমস্যা পোহাতে হত। তবে এ বারের মত টানা এত দিন দুর্ভোগে পড়তে হয়নি। সমস্যার জেরে টাকা তোলা, জমা দেওয়ার কোন কাজই করা যাচ্ছে না। তুফানগঞ্জের বাসিন্দা, একটি হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু পাল বলেন, “এনএসসি, ফিক্সড ডিপোজিটের কাজও করা যাচ্ছে না। কবে সমস্যা মিটবে তাও স্পষ্ট নয়।” অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সুভাষ রায় বলেন, “মান্থলি সেভিংস স্কিমের সুদের টাকা তুলতে পারছি না। সমস্যা  হচ্ছে।”

গ্রাহক ভোগান্তি নিয়ে সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলিও। তুফানগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক ফজল করিম মিঁয়া বলেন, “গ্রাহকদের মারাত্মক হয়রানি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।” যুব কংগ্রেসের তুফানগঞ্জের সভাপতি শুভময় সরকার বলেন, “আমরাও আন্দোলনের কথা ভাবছি।”