রায়গঞ্জ পুরসভার উদ্যোগে হাসপাতাল চালু হওয়ার পর দেড় দশক পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে মাতৃসদন নামে ওই হাসপাতালের লাইসেন্স নেননি পুর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি, উত্তর দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একটি প্রতিনিধি দল ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করে। তখনই এই অনিময় ধরা পড়েছে। গত জুলাই মাসে কংগ্রেস পরিচালিত তত্কালীন পুরবোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই থেকে সরকারি নির্দেশে পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক থেন্ডুপ নামগিয়েল শেরপা।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা বলেন, ‘‘বিনা লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য দফতরের নিয়ম না মেনে হাসপাতালটি চলছে জানা গিয়েছে। মহকুমাশাসককে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন ও সরকারি নিয়ম মেনে হাসপাতাল চালানোর অনুরোধ করা হয়।’’

মহকুমাশাসকের দাবি, অতীতে পুরসভার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বোর্ডের তরফে হাসপাতালের লাইসেন্সের জন্য জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আবেদন করা হয়নি। এখন লাইসেন্সের আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে!

কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দে পুরসভা চত্বরে ২০০১ সালের ১৪ জানুয়ারি ওই হাসপাতালটি চালু হয়। সেই সময় পুরসভার ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। এরপর ২০০৬ সাল থেকে গত বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত পুরসভায় একটানা ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। ২৮টি শয্যার ওই হাসপাতালে ৬ জন চিকিত্সক, ১৪ জন নার্স ও ১৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। সেখানে প্রসূতিদের স্বাভাবিক ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব হয়। বিদায়ী পুরবোর্ডের হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর তথা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পবিত্র চন্দের দাবি, স্বাস্থ্য দফতর বিদায়ী পুরবোর্ডকে কখওনই লাইসেন্স নেওয়া ও কোনও নিয়ম মানার ব্যাপারে কিছু বলেনি!