এক রাতের ঘটনা। তাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরপর এফআইআর লেখা হল এনজেপি জিআরপি থানায়। এবং সেই এফআইআর যুদ্ধে এক দিকে সেনাবাহিনীর অফিসার তো অন্য দিকে আরপিএফ এবং টিকিট চেকার। পরিস্থিতি এতটাই জট পাকিয়েছে যে বিষয়টি কানে গিয়েছে নবান্নেরও। শিলিগুড়ির রেল পুলিশ সুপারের তরফে রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে একটি প্রাথমিক রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে। 
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্যের রেল পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, তিনটি অভিযোগই অত্যন্ত সংবেদনশীল। সে জন্য তাড়াহুড়ো না করে সব ক’টি অভিযোগ সমান গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার শুরু সোমবার সন্ধ্যায় অসমগামী মহানন্দা লিঙ্ক এক্সপ্রেসে। রেল পুলিশ সূত্রের খবর, ওই ট্রেনের বাতানুকূল কামরায় বিন্নাগুড়ি যাচ্ছিলেন এক সেনা অফিসার ও তাঁর কয়েক জন সহকর্মী। অভিযোগ, তাঁদের একাংশের টিকিট ‘কনফার্ম’ করার জন্য টিটি-কে অনুরোধ করা হয়। টিটি-র দাবি, তিনি নিয়ম ভেঙে কাউকে আসন দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। তার উপরে এক সেনা অফিসারের কাছে বৈধ টিকিট নেই, এই অভিযোগে তাঁকে বারসই স্টেশনে নামিয়ে দেন টিটি। সেনাদের পাল্টা অভিযোগ, এনজেপি স্টেশনের আগে এক সেনা অফিসার খাবারের মান খারাপ জানিয়ে ‘কমপ্লেন বুক’ চাইলে টিটি তা না দিয়ে দুর্ব্যবহার করেছেন। 
এর মধ্যে এনজেপি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছয়। তখন টিটি নামতে চাইলে তাঁকে সেনা অফিসার ও তাঁর সঙ্গীরা আটকে বিন্নাগুড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে রেল রক্ষী বাহিনী বা আরপিএফ তাঁকে উদ্ধার করতে আসে। 
আরপিএফের এক ইন্সপেক্টর লিখিত অভিযোগ করেছেন, সেনা অফিসারদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও এক জন জবরদস্তি টিটি-কে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আরও অভিযোগ, ওই সময়ে বাধা দিলে আরপিএফের এক ইন্সপেক্টরের গায়ে হাত দেওয়া হয়। সেনা অফিসার ও তাঁর সঙ্গীদের পাল্টা অভিযোগ, তাঁরা কিছু না করা সত্ত্বেও আরপিএফ তাঁদের হেনস্থা করে। 
পরদিন সকাল থেকে দফায় দফায় তিন পক্ষই এফআইআর করে এনজেপি জিআরপি-তে। দুটি মামলাও শুরু হয়েছে। তিন অভিযোগকারীই যে হেতু কোনও না কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, তাই রেল পুলিশ খুব সাবধানে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।